kalerkantho

শুক্রবার । ১১ আষাঢ় ১৪২৮। ২৫ জুন ২০২১। ১৩ জিলকদ ১৪৪২

বিদ্যালয় বেদখলে, শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৬ মে, ২০২১ ১৬:৪৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদ্যালয় বেদখলে, শিক্ষকদের প্রাণনাশের হুমকি

করোনাকালে বিদ্যালয়টি দখলে নেয় জমিদাতা পরিবার। প্রায় তিনমাস পার হলেও দখলমুক্ত করতে পারেনি কতৃপক্ষ। এ অবস্থায় বিদ্যালয়টির অফিসিয়াল কার্যক্রম পরিচালনাসহ শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ছাড়াও বিস্কুট দিতে পারছে না দখলদারদের হুমকিতে। বৃহস্পতিবার সকালে বিস্কুট দিতে গেলে ওই দখলদারদের তাড়া খেয়ে শিক্ষকরা বিস্কুট দিয়েছেন দুই কিলোমিটার দূরে এক ব্যক্তির বাড়ি উঠান থেকে। এ ধরনের ঘটনা ময়মনসিংহের নান্দাইলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দক্ষিণ কতুবপুর পিয়ারজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামের বিদ্যালয়টি নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়নের কতুবপুর এলাকায় অবস্থিত। ১৯৭৪ সালে ওই গ্রামের আছর আলীর স্ত্রী পিয়ারজান বিবি নামে এক নারী নিজের ৫১ শতক জমি দান করেন একটি বিদ্যালয়ের নামে। এরপর থেকে বিনা বাধায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়ে আসছে। আশপাশ কোনো বিদ্যালয় না থাকায় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও আশানুরূপ। ২০১৩ সালে জাতীয় করণের পর বিভিন্ন ছুতোয় বিদ্যালয়টির জায়গা দখলে নেওয়ার পায়তারা শুরু করে জমিদাতা পরিবারের লোকজন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় বাধা ছাড়াও মামলার পরেও বিদ্যালয় চালু থাকায় সুবিধা করতে পারেনি তাঁরা। সর্বশেষ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি বরাদ্ধের চারতলা একাডেমিক ভবন নির্মাণের উদ্বোধন হলেও বাধার মুখে বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় গত মার্চ মাসের শুরতেই বিদ্যালয়ের মাঠ ট্রাক্টর দিয়ে চষে সারিসারি কলাগাছ রোপণ করে পুরো বিদ্যালয় দখলে নিয়ে নেয়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকীর মুখে ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

খবর পেয়ে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, জমিদাতার লোকজন বিদ্যালয়রে আশপাশ বসে রয়েছে। অফিস কক্ষে তালা ঝুলছে। স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাস করলে জানা যায়, সকালে পাঁচজন শিক্ষক আসছিলেন বিস্কুট দিতে। এ সময় অনেকে শিক্ষার্থীও ছিল। একপর্যায়ে জমিদাতার লোকজনের বাধার মুখে বিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় কালিয়াপাড়া বাজারের সাথে জনৈক হান্নানের বাড়িতে বসে শিক্ষার্থীদের বিস্কুট দেওয়া হচ্ছে। সেখানে গেলে মারুফা, মামুন, রমজান ও শরিফুল নামের শিক্ষার্থীরা জানায়, তারা সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে বকা খেয়েছে। কয়েকজন লোক লাঠি হাতে নিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেয়। পরে এই বাড়িতে এসে বিস্কুট নিচ্ছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকেয়া খাতুন জানান, দখলের পর থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে গেলে জমিদাতার পরিবারের লোকজন বাজে কথা বলে হুমকি দেয়। পরে বাধ্য হয়ে বিস্কুট দেওয়ার কার্যক্রম সারতে দুই কিলোমিটার দূরের এক বাড়ি থেকে দিয়েছেন।

নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিইও) মোহম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, ঘটনাটি ফয়সালার জন্য একটি কমিটি করা হয়েছে। দেখা যাক তাঁরা কি করেন। আর এখন বিস্কুট বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেওয়াই ভালো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, এটা তো হওয়ার কথা না। খোঁজ নিয়ে দেখছি।



সাতদিনের সেরা