kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

করোনায় ভালো নেই ঘাটাইলের পাটিশিল্পীরা

ঘাটাইল (টাঙ্গাইলা) প্রতিনিধি    

৬ মে, ২০২১ ১০:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় ভালো নেই ঘাটাইলের পাটিশিল্পীরা

করোনা মহামারির কারণে যথাসময়ে পাটি বিক্রি করতে না পারা আর প্লাস্টিকের পাটির আধিপত্যে চরম সংকটে পড়েছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাটিশিল্পীরা। এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত উপজেলার প্রায় ৪০০ পরিবার পড়েছে মারাত্মক আর্থিক সংকটে।

সরেজমিনে উপজেলার পাটিশিল্পপ্রধান গ্রাম ঘুরে এ কাজে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। অনেক পাটিশিল্পীকে দেখা গেছে বাধ্য হয়ে পেশা বদল করতে।

পাটিশিল্পীরা জানান, ঘাটাইল উপজেলার কুতুবপুর, পাকুটিয়া, বাণীবাড়ি, রৌহা, রামপুর, নাগবাড়ি গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবার জাতিসংঘের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত পণ্য পাটিশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। এসব পরিবার আবহমান কাল ধরে বংশ পরম্পরায় পাটি বুনে জীবনধারণ করে আসছে। এখান থেকে তাদের যা আয় হতো তা দিয়েই সংসার চলে যেত। সন্তানদের পড়ালেখা চলছিল। কিন্তু একদিকে প্লাস্টিকের পাটির কারণে বেতের পাটির চাহিদা কমেছে। অপরদিকে গতবছর থেকে মরার ওপর খাড়ার ঘা হয়ে যুক্ত হয়েছে করোনা মহামারি। এতে ছন্দপতন ঘটেছে তাঁদের সাংসারিক জীবনে।

কুতুবপুর গ্রামের পাটিশিল্পী গোপাল চন্দ্র পাল (৩২) বলেন, 'গত কয়েক বছরে আমাদের অনেকে এ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ায় কাঁচামালের সংকট কিছুটা কমেছিল। বেতের বাগান পর্যাপ্ত থাকায় দরকাষাকষি করে বেত কেনা যেত। এ কারণে মোটামুটি স্বস্তিতে ব্যবসা চলছিল। কিন্তু প্লাস্টিকের পাটি আর করোনা চরম বিপদে ফেলেছে আমাদের। হাট-বাজার বন্ধ থাকার কারণে পাটি বিক্রি করতে পারছি না। বোনা পাটি ঘরের মধ্যেই পড়ে আছে।'

রামপুর গ্রামের হরিদাশ পাল, রামজীবন পুরের নারায়ণ পাল এর মধ্যে পেশা পরিবর্তন করেছেন। তাঁরা জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পেশাটি পরিবর্তন করতে তাঁদের অনেক খারাপ লেগেছে। কিন্তু উপায় ছিল না। বাধ্য হয়েই বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে তাঁরা এখন দিনমজুরের কাজ করছেন।

হরিদাশ পাল বলেন, 'বাপ-দাদার পেশা কী সাধে ছাড়ছি দাদা। এমনিতে ট্যাহা পয়সা নাই, তার ওপর পাটি বেচতে পারি না।'

কথা হয় রৌহা গ্রামের পদ্মা রানী পাল, অমল চন্দ্র চন্দ, কল্পনা পাল ও পরিতোষ চন্দ্র দেবের সঙ্গে। তাঁরা সবাই এই গ্রামের তৃতীয় প্রজন্মের পাটিশিল্পী। পাটি বোনায় তাঁদের রয়েছে বিশেষ দক্ষতা। শীতল পাটির একটি স্থানীয় ধরন তৈরি করেছেন তাঁরা। দাম কম হওয়ায় এর চাহিদা বেশি। এ থেকে তাঁদের আয়ও ভালো হয়। কিন্তু করোনার কারণে পাটি বিক্রি করতে না পারায় তাঁরা মহাবিপদে পড়েছেন। তাঁরা জানান, এনজিও থেকে ঋণ করে ব্যবসা বাড়িয়েছিলেন। এখন পাটি বিক্রি হচ্ছে না কিন্তু ঋণের কিস্তি নিয়মিত দিতে হচ্ছে।

নিজের থাকার ঘরে স্তূপ করে রাখা পাটি দেখিয়ে বৃদ্ধা কল্পনা পাল বলেন, 'আমাগো কি এতো সোমর্থ আছে যে ঘরে পাটি জমাইয়া রাখমো।' 



সাতদিনের সেরা