kalerkantho

শনিবার ।  ২১ মে ২০২২ । ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৯ শাওয়াল ১৪৪৩  

বনভূমি দখল করে ইয়াবা কারবারির পাঁচ তলা ভবন

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৬ মে, ২০২১ ০৪:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বনভূমি দখল করে ইয়াবা কারবারির পাঁচ তলা ভবন

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে বন বিভাগের সংরক্ষিত পাহাড়ী বনভূমি দখল করে গড়ে উঠছে সুরম্য এই পাকা ভবন। স্থানীয় দুই শীর্ষ ইয়াবাকারবারীর সিন্ডিকেট এ স্থাপনা গড়ে তুলছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সঙ্গে লাগোয়া বনভূমিতে ইয়াবা কারবারির দল কিভাবে এত বড় একটি পাকা ভবন করে যাচ্ছে তাই সচেতন মহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।  

ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা একবারও কি জানতে চাইলেন না কার জমিতে ইয়াবা কারবারির দল এত বড় আলিশান ভবন নির্মাণ করছে? ফাঁড়িটিও বন বিভাগের জমিতে স্থাপন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আর ইয়াবা কারবারির দলের সদস্যদের জবর দখলেও আরো অনেক বনভূমি ছিল। কিছু বনভূমি ফাঁড়ির জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, মাসাধিক সময় ধরে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের উখিয়া সদর বন বিটের আওতাধীন কুতুপালং এলাকার সংরক্ষিত বনভূমি দখল করে গড়ে তোলা হচ্ছে এই বহুতল ভবনটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগ ও সরকারি অন্যান্য দায়িত্বশীল সংস্থার নাকের ডগায় এই ভবন নির্মাণকাজ চললেও তাদের ভূমিকা রহস্যজনক। ইতিপূর্বেও এই দুই ইয়াবা সিন্ডিকেট প্রধান বন বিভাগীয় সংশ্লিষ্টদের অনৈতিক বশে এনে আরো একাধিক পাকা ভবন বানিয়েছে বনভূমিতে।

এমনিতে রোহিঙ্গারা যেভাবে বনভূমি দখল করে বস্তি গড়ে তুলছে, তাতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্থানীয় ইয়াবাকারবারী ভূমিদস্যুরা রিজার্ভ বন দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখায় অনান্য জবরদখলকারীরাও প্রশ্রয় পাবে বলে লোকজনের অভিমত।

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কুতুপালং হাইওয়ে পুলিশের ডাম্পিং স্টেশন সংলগ্ন রিজার্ভ বনভূমিতে দুই ইয়াবা কারবারী ৫ তলার পাকা ভবন নির্মাণ করছে। প্রতিদিন ২০/২৫ জন শ্রমিক এই বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। শ্রমিকরা জানান, নির্মাণাধীন এ ভবনের মালিক স্থানীয় কুতুপালংয়ের দুই ইয়াবাকারবারী প্রবীন বড়ুয়ার ছেলে সুশীল বড়ুয়া ও কাদির মেম্বারের ছেলে রহমত উল্লাহ (কালু)। গত এক মাস ধরে তারা এই ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। কাজ শেষ হতে আরো এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, বন বিভাগের সংরক্ষিত প্রায় কয়েক একর ভূমি দীর্ঘদিন দুই ইয়াবাকারবারীর দখলে রয়েছে। সেখানে তারা পাকা ভবন নির্মাণ করলেও বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা তাতে বাধা দিচ্ছে না। উখিয়া বন রেঞ্জ-সংশ্নিষ্টদের ম্যানেজ করেই বন ভুমিতে ৫ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগ করেও কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

বুধবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে উখিয়ার ওয়ালা পালং বিট কর্মকর্তা বজলুল রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে জানেন না বলে জানালেও পরে বলেন যে, এ বিষয়ে তিনি গেল মাসে একটি মামলা করেছেন আদালতে। পরে রাতে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।



সাতদিনের সেরা