kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

প্রেমের প্রস্তাব, অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে...উদ্দেশ্য সম্পত্তি আত্মসাৎ!

স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর) প্রতিনিধি    

৫ মে, ২০২১ ১৪:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রেমের প্রস্তাব, অপহরণ, জোরপূর্বক বিয়ে...উদ্দেশ্য সম্পত্তি আত্মসাৎ!

প্রতীকী ছবি

প্রথমে প্রেমের প্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় অপহরণ করে নিয়ে জোর করে বিয়ে। উদ্দেশ্য, একমাত্র মেয়ের বাবার অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাৎ করা। আর এ লক্ষ্যে এক কালেজছাত্রীকে দেড় মাস আটকে রেখে  অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। মেয়ের বাবা থানায় প্রথমে সাধারণ ডায়েরী ও পরে অপহরণ মামলা দিলে পুলিশ নানা কৌশল অবলম্বন করে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। অপহরণকারীদের প্রস্তাব ও তাদের কথামতো চলতে অস্বীকৃতি জানালে তারা মেয়েটিকে আটকে রেখে প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতো। পাশাপাশি তাকে চেতনানাশক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হতো। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। 

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সোহাগদল ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। উদ্ধারের পর মেয়েটির কাছ থেকে জানা গেছে, সোহাগদল এলাকার ব্যবসায়ীর একমাত্র মেয়ে একাদশ শ্রেণীর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। ব্যবসায়ী বাবার অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের  উদ্দেশ্যে পার্শ্ববর্তী সারেংকাঠি ইউনিয়নের বিষ্ণুকাঠি গ্রামের মো. আবুল কালামের ছেলে মাইনুল ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন সময় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। বিষয়টি মেয়ের কাছে শুনতে পেয়ে বাবা ওই ছেলের পরিবারের কাছে নালিশ করেন। পরে গত ২০ ফেব্রুয়ারি ছাত্রীটি প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে মাইনুল, তার ভাই আমান, মামা মামুন ও চাচাতো ভাই কামরুল মিলে তাকে অচেতন করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। জ্ঞান ফিরে মেয়েটি দেখতে পায় তাকে একটি গাড়িতে করে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এসময় মেয়েটি ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে তার বাবার কাছে ফোন দিতে চাইলে অপহরণকারীরা তার গলায় চাকু ধরে মোবাইল ও সাথে থাকা স্বর্ণালঙ্কার ছিনিয়ে নেয়। তাকে চুপচাপ বসে থাকতে বলা হয়। একটি মাহিন্দ্র জিপে করে তাকে খুলনার রামপালে নিয়ে গিয়ে জোর করে মাইনুলের সাথে বিয়ে দেয়া হয়। এসময় মাইনুলের পিতা আবুল কালাম ও মা মারুফা বেগমও উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে মেয়েটি তার বাবার কাছ থেকে টাকা এনে দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন শুরু করে। পাশাপাশি তাকে চেতনানাশক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ানো হতো। এদিকে হেলাল, মাইনুল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মেয়েকে অপহরণের মামলা দায়ের করেন বাবা। সেই মামলায় জামিন পেতে মাইনুল মেয়েটিকে জীবননাশের হুমকি দিয়ে আদালতে তাদের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়াতে বাধ্য করে। বর্তমানে মাইনুল ও তার পরিবার ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন। 

এ বিষয়ে ওই কলেজছাত্রীর বাবা হেলাল উদ্দিন জানান, মাইনুল মাদক ব্যবসা, চুরি, নারী কেলেঙ্কারীসহ নানা ধরনের অপকর্মের সাথে জড়িত। মাইনুল ও তার পরিবার আমার অর্থ-সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশ্যে আমার মেয়েকে অপহরণ করেছে। এমনকি তারা জামিনে এসে অপহরণ মামলা এড়াতে আমার বিরুদ্ধে তাদের ঘরে ভাঙচুরের মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। তারা আমার মেয়েকে আটকে রেখে দিনের পর দিন যে অমানুষিক নির্যাতন করেছে তাতে আমার মেয়ের জীবন আজ বিপন্ন।



সাতদিনের সেরা