kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

সাইকেলটাই দোকান!

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ    

৫ মে, ২০২১ ১৪:০১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সাইকেলটাই দোকান!

সাইকেলের শুধু চাকাগুলোর নিচের অংশ দেখা যায়। বাকি অংশটা ঢেকে আছে হাঁড়ি, পাতিল, গামলা, মগসহ গৃহস্থালীর নানান টুকটাক বাসন-কোসনে। দূর থেকে হঠাৎ দেখলে মনে হবে ছোটখাটো একটি দোকান। এ দোকান নিয়েই ময়মনসিংহ নগরীর অলিগলি হেঁটে চলেছেন ইসমাইল নামের এক মধ্যবয়সী যুবক। জীবিকার প্রয়োজনে ইসমাইলের এ নগরীতে আসা সেই সুদূর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে। সম্প্রতি পথ চলতে গিয়ে নগরীর বড় কালীবাড়ি এলাকায় দেখা মেলে ইসমাইলের।

কোনো পথিক কিংবা সাংবাদিককে সাক্ষাৎকারের জন্য লম্বা সময় দেওয়ার মতো সময় নেই ইসমাইলের। যত ঘোরাঘুরি তত বেশি বেচা-বিক্রি। পথে দাঁড়ালেই ক্ষতি। তবুও ক্ষণিকের সময় নিয়ে আলাপকালে জানা গেল, ইসমাইলের পরিবার একসময় ছিল বেশ স্বচ্ছল। প্রায় ২০ বছর আগে নদীভাঙনে তারা হয়ে যায় নিঃস্ব। এরপর থেকে ইসমাইলের শুরু হয় বেঁচে থাকার সংগ্রাম। আর এ সংগ্রামে এখন তার হাতিয়ার এই সাইকেল, আর কাজটা হলো বাড়ি বাড়ি ঘুরে হাঁড়ি-পাতিল বিক্রি। 

ইসমাইল জানান ময়মনসিংহ নগরীতে তারা বেশ কয়েকজন আছেন। মেস করে থাকেন পাটগুদাম রেলি মোড় এলাকায়। থাকা-খাওয়াসহ ৪ হাজার মতো খরচ হয়। বাকি কিছু টাকা হাতে থাকে। তা-ই বাড়িতে পাঠান পরিবারের কাছে। প্রতিদিন সকালে সাইকেলে হাঁড়ি-পাতিল ও অন্য বাসন-কোসন নিয়ে বের হন। গড়ে বেচা বিক্রি করে প্রতিদিন ৪/৫ শ টাকা লাভ হয়। অনেক দিন অবশ্য কেনা-বেচা কম হয়। বর্তমানে করোনাকালে বেচা-কেনা কেমন এ প্রশ্নে ইসমাইল জানান, মানুষ কষ্টে আছে। তার ক্রেতা মূলত গরিব ও নিম্নবিত্ত পরিবার। বর্তমানে এমন পরিবার কষ্টে থাকায় তার বেচা-কেনাও কম। কথা শেষে ইসমাইল নিজ থেকেই বলে ভাই এবার আসি আরেক জায়গায় যেতে হবে। এরপর ইসমাইল এগিয়ে যায়। দূর থেকে তার কণ্ঠ শোনা যায়- লাগবে হাঁড়ি পাতিল, জগ বালতি...



সাতদিনের সেরা