kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

কলমাকান্দায় শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের নাম করে অর্থ আদায়

কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

৪ মে, ২০২১ ২০:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কলমাকান্দায় শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের নাম করে অর্থ আদায়

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণের (ফিক্সেশন) নাম করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মো. বাবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে। ওই শিক্ষক নেতারা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ের খরচের কথা বলে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তারা শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হচ্ছে।

বাবুল হোসেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি উপজেলা সদরের সচিত্রবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় ও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কলমাকান্দায় ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় সাত শতাধিক সহকারী শিক্ষক কর্মরত। শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার গত বছর ১৩ গ্রেডে উচ্চ ধাপে বেতন উন্নীত করার আদেশ জারি করেন। এ নিয়ে গত ১২ আগস্ট অর্থ মন্ত্রণালয় এক আদেশে বলা হয়, যে সব শিক্ষকের বর্তমান বেতন ১৩ গ্রেডের নিম্নধাপের চেয়ে বেশি তাদের বেতন উন্নীত স্কেলে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয়। সম্প্রতি এ নিয়ে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১০ মে এর মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু কলমাকান্দায় শিক্ষক নেতা মো. বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে শিক্ষকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। তারা প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে আদায় করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১৫ জন সহকারী শিক্ষক জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে বাবুল হোসেনের নেতৃত্বে চার পাঁচজন শিক্ষক নেতা তাদের বেতন নির্ধারণের (ফিক্সেশন) জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের খরচের কথা বলে জন প্রতি ৩০০ টাকা করে নিচ্ছেন। এর সঙ্গে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন। 

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাবুল হোসেন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা ফিক্সেশনের কথা বলে কোনো টাকা আদায় করিনি। এটা আগে কয়েকজন শিক্ষক একাউন্টস অফিসে যোগাযোগ করেছিল। সেখানে কিছু টাকা লাগতে পারে। এখন টাকা না দিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নিষেধ করে দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে কলমাকান্দা উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মাসুম খান বলেন, আমার অফিসে শিক্ষকদের ফিক্সেশনের নাম করে কেউ টাকা নিচ্ছেন তা জানা নেই। বেশ কয়েকজন শিক্ষক নেতা কিছু দিন আগে আমার কাছে এসেছিলেন সহকারী শিক্ষকদের সর্ব্বোচ স্কেলে বেতন করে দিতে। কিন্তু বলেছিলাম প্রায় ৮০০ শিক্ষকের বেতনের কাজ এই অল্প সময়ে করে দেয়া সম্ভব না।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহানারা খানম বলেন, শিক্ষক নেতারা এ ব্যাপারে আমাদের সঙ্গে কোন রকম যোগাযোগ করেননি। তারা নিজেদের ইচ্ছামত এ কাজ করে থাকতে পারেন। তবে বিষয়টি শুনার পর আমি নিষেধ করেছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল্লাহ বলেন, ফিক্সেশনের কথা বলে কলমাকান্দায় বাবুল হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক নেতার বিরুদ্ধে ৩০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ আমি শুনেছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে দুপুরে দশটি উপজেলার শিক্ষা কর্মকর্তাদের জুমে যুক্ত করে কথা বলেছি। শিক্ষকরা কোন রকম টাকার লেনদেন না করতে সতর্ক করে একটি চিঠি দিয়েছি।     



সাতদিনের সেরা