kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

মুসলিম যুবকের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে, মেয়েকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন!

রাজৈর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

৪ মে, ২০২১ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসলিম যুবকের সঙ্গে প্রেম-বিয়ে, মেয়েকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন!

প্রতীকী ছবি।

মাদারীপুরের রাজৈরে ভিন্ন ধর্মের এক যুবকের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করার 'অপরাধে' এক কিশোরীকে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পাল পাড়ায়।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী সুত্রে জানা যায়, খালিয়া পাল পাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বী এক কিশোরীর (১৭) সঙ্গে প্রতিবেশী ইসলাম ধর্মাবলম্বী আবু সাঈদের (২৩) প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আবু সাঈদ একই এলাকার আবদুল জলিল শেখের ছেলে। গত ছয় মাস আগে আবু সাঈদ এবং ওই কিশোরী পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে রাজৈর থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে। উদ্ধারের পর কিশোরীকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং আবু সাঈদকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরে সাঈদ জামিনে বের হয়। 

কিশোরীর বাবা তাকে (কিশোরীকে) সিলেটে নিয়ে যায়। কিন্তু আবু সাঈদ খোঁজ খবর নিয়ে সিলেট থেকে ওই কিশোরীকে নিয়ে আবার পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা সিলেট থানায় মামলা দায়ের করে। এক মাস পর ঢাকার আশুলিয়া থেকে পুলিশ তাদেরকে আটক করে পুলিশ। আবারো কিশোরীকে পরিবারের কাছে এবং আবু সাঈদকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়।

এর মধ্যে আবু সাঈদের স্বজনরা কিশোরীকে নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার রাজেশ্বরদী গ্রামে আবু সাঈদের বোনের বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখনে একটি মহিলা মাদরাসায় ভর্তি করে দেয়। আবারো কিশোরীর পরিবারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। 

বাড়িতে আনার পর প্রায় ১০ দিন তার পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে এবং শারিরীক নির্যাতন চালায় পরিবারের সদস্যরা। গত শুক্রবার পর্যন্ত কিশোরীকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তার পায়ের শিকল খুলে দেয়।

ওই কিশোরী বলেন, 'আবু সাঈদের সঙ্গে আমার প্রায় সাড়ে তিন বছরের সম্পর্ক। আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাকে বিয়ে করেছি। আমাকে পরিবারের লোকজন ধরে এনে দুই পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে এবং শারিরীকভাবে নির্যাতন করে।'

কিশোরীর মা বলেন, 'মান-সম্মানের ভয়ে আমরা মেয়েকে শাসনে রাখি। এ ঘটনায় সমাজ আমাদের এক ঘরে করে রেখেছে। তাছাড়া আবু সাঈদের পরিবারের লোকজন সব সময় আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে। লজ্জায় মুখ দেখাতে পারি না।'

আবু সাঈদের বাবা আবদুল জলিল শেখ জানান, আমার ছেলের মুক্তি চাই এবং যাতে নিরাপদে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা করা দরকার।

রাজৈর মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার কনা বলেন, একজন নাবালিকা নির্যাতন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। যদি এরকম ঘটনা ঘটে থাকে, আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। মেয়েটি নাবালিকা এবং তার বাব-মার কাছেই আছে। সে যদি তার বাবা-মার কাছে নিরাপদ বোধ না করে, তার সাথে যোগাযোগ করে তাকে সরকারি সেভ হোমে রাখার ব্যবস্থা করা হবে।



সাতদিনের সেরা