kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

বোরোর ফলনে হাসছে কৃষক

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৪ মে, ২০২১ ১৬:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোরোর ফলনে হাসছে কৃষক

করোনা পরিস্থিতির কারণে শুরুতে বীজ, সার ইত্যাদি সংগ্রহে দুশ্চিন্তায় ছিলেন কৃষক। অনুকূল আবহাওয়ায় থাকায় ভালো ফলনের আশা করলেও দুশ্চিন্তা ছিল ধান কাটানোর শ্রমিক নিয়ে। তবে সব শঙ্কা দূর করে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকের মুখের ফুটেছে হাসি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য মতে, লক্ষ্যমাত্রার বেশি বোরোর আবাদ হয় এ বছর। একইভাবে আবাহাওয়া অনুকূলে থাকাসহ বিভিন্ন কারণে লক্ষ্যমাত্রার বেশি ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার নাগাদ হাওড় এলাকায় প্রায় ৯৫ ভাগ ও গড়ে পুরো জেলায় ৭০ ভাগ ধান কাটা শেষ হয়েছে।

সূত্রটি জানায়, চলতি মৌসুমে এক লাখ ১০ হাজার ৮৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১১ হেক্টর বেশি জমিতে অর্থাৎ এক লাখ ১০ হাজার ৮৯৬ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হয়। ছয় লাখ ৭৪ হাজার মেট্রিক টন ধানের আশা করা হলেও প্রায় সাত লাখ মেট্রিক টন ধান ফলনের আশা করা হচ্ছে।

এদিকে জেলায় মোট ১৪ হাজার ৭১৬ মেট্রিক টন ধান সরকারিভাবে সংগ্রহ করা হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান এক হাজার ৮০ টাকা দরে কেনার কথা রয়েছে। গত ১ মে থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরু থেকেই তাদেরকে বীজ, সার ও পানি নিশ্চিত করা হয়। ধান পাকা অবস্থায় বৃষ্টি কম হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের সপ্তাহখানেক আগেই ধান পেকে যায়। করোনার কারণে শ্রমিক সংকট থাকায় সরকারিভাবে শ্রমিক সংগ্রহ ও হারভেস্টার মেশিনে কাটার সুবিধা করে দেয়া কৃষকরা স্বাচ্ছন্দে ঘরে ধান তুলতে পারেন। কৃষকরা ধানের ন্যায্য মূল্য পাবেন বলেও আশা করছেন।

কথা হয় জেলা কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের দেলি গ্রামের কৃষক মো. ফোরকানের সঙ্গে। সোমবার দুপুরে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার আমার জমিতে বোরোর প্রায় দ্বিগুন ফলন হয়েছে। বিভিন্নস্থান থেকে আনা সাতটি হারভেস্টার মেশিন দিয়ে কৃষকদের ধান কাটায় সহায়তা করেছি আমি। এটাতেও আমি লাভবান হয়েছি।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রবিউল হক মজুমদার বলেন, ‘এবার বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে সরকারি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তিন হাজার ৮০০ জন কৃষককে এক বিঘা করে বোরো ধান আবাদের জন্য সার ও বীজ দেওয়া হয়। ৩৫ হাজার কৃষকের মাঝে দুই কেজি হারে বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায় লকডাউনের মধ্যেও ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ,  জামালপুর, শেরপুর, রংপুর ও হবিগঞ্জ থেকে সাত হাজার শ্রমিক ধান কাটার জন্য আনা হয়। এ ছাড়া জেলায় ১৫৬টি কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার ও ২৮টি রিপার মেশিনে এক যোগে ধান কাটার কাজে লাগানো হয়।’



সাতদিনের সেরা