kalerkantho

বুধবার । ২ আষাঢ় ১৪২৮। ১৬ জুন ২০২১। ৪ জিলকদ ১৪৪২

মির্জাপুরে রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলে যান-পথচারী

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৪ মে, ২০২১ ১৬:২৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মির্জাপুরে রাস্তার মাঝে বড় বড় গর্ত, ঝুঁকি নিয়ে চলে যান-পথচারী

দেওহাটা-ধানতারা আঞ্চলিক সড়কের দেওহাটা বাসস্ট্যান্ড হতে শিল্পপতি নুরুল ইসলাম সেতু পর্যন্ত সড়কের দূরত্ব প্রায় সোয়া ৪ কিলোমিটার। সড়কটির ওপর কার্পেটিং নেই। দেখে বোঝার উপায় নেই সড়কটি কার্পেটিং করা হয়েছিল। এর মধ্যে আবার সড়কটির একটি ব্রিজের মাঝখানে ভেঙে গর্ত হয়ে গেছে।

এ ছাড়া এই চার কিলোমিটার সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে ২০টি ইটভাটা। ওইসব ভাটায় মাটি, কয়লা, লাকড়ি ও ইট বহনে প্রতিদিন শত শত ভারি যানবাহন চলাচল করছে। সড়কটিতে ভারি ট্রাক চলার কারণে ইট, পিচ, খোয়া উঠে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই পাকা সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। দ্রুত মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষায় সড়কে চলাচলকারী জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে উঠবে বলে ওই সড়কে চলাচলকারীরা মনে করছেন। সড়কটি দিয়ে স্থানীয়রা ছাড়াও সাভার, ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাটুরিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করে থাকেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ভারি যান চলাচলের কারণে কার্পেটিং উঠে পুরো সড়কটিতে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ভাটায় বহনকারী ট্রাক থেকে কাদা মাটি পড়ে পুরো সড়ক পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। বৃষ্টি হলেই ওইসব গর্তে পানি জমে। বিকল্প রাস্তা না থাকায় সড়কটির এরকম দশার কারণেও যানবাহন ও পথচারীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া সড়কটির মীর দেওহাটা এলাকায় দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ব্রিজের মাঝখানে গর্তের সৃষ্টি হয়ে ভেঙে পড়ায় স্থানীয়রা ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে সংস্কার করলেও ঝুঁকি রয়েছে বলে জানা গেছে। সড়কটিতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রকৌশল অফিস ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের দেওহাটা থেকে ধামরাই হয়ে ঢাকা যাওয়ার অন্যতম সড়ক দেওহাটা-ধানতারা আঞ্চলিক সড়ক। এই সড়কটি মির্জাপুর উপজেলার সাথে পার্শ্ববর্তী ধামরাই, মানিকগঞ্জ, সাভার, সাটুরিয়া ও ঢাকায় যোগাযোগের সহজ মাধ্যম। প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও হাজারো মানুষ এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে।

১৯৯৪ সালে টাঙ্গাইল জেলা পরিষদ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়কটির দেওহাটা এলাকায় ১২ মিটার দৈর্ঘ্যরে একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। তারপর থেকে একাধিকবার ওই সড়ক সংস্কার ও পাকাকরণের কাজ হলেও জরাজীর্ণ ব্রিজটি তেমনিই রয়ে গেছে।
সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কর্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়। মির্জাপুর এলজিইডি অফিস ২০১৮ সালে দেওহাটা থেকে চান্দুলিয়া আলহাজ শিল্পপতি নুরুল ইসলাম ব্রিজ পর্যন্ত সোয়া ৪ কিলোমিটার সড়কটি সংস্কার করেন। টাঙ্গাইলের আর এস এন্টারপ্রাইজ টেন্ডারের মাধ্যমে ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কার বাস্তবায়ন করেন। সংস্কারের ১৫ দিনের মধ্যেই এলাকাবাসী হাত দিয়ে কার্পেটিং টেনে তোলেন। এ ছাড়া কাজের মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ করেন। এ নিয়ে কালের কণ্ঠে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর ওই ব্রিজের কয়েক স্থানে ফাটল দেখা দেয়। ভারী যানবাহন চলাচল অব্যাহত থাকায় তা আস্তে আস্তে ভাঙনে পরিণত হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় লোকজন ওই গর্ত ঢালাই দিয়ে সংস্কার করেন। এ ছাড়া সড়কটি কার্পেটিং উঠে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গর্তে বৃষ্টি পানি জমে যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে পুরো রাস্তা কাদায় পরিণত হয়। গর্তে পড়ে প্রতিদিন একাধিক যান বিকল হচ্ছে। এ ছাড়া পথচারীদের চলাচলে প্রতিনিয়নত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গত রবিবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ব্রিজের ওপর দিয়ে ছোট বড় যানবাহন চলছে। একটি যান ব্রিজের ওপর উঠলে অপর প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে।

মীর দেওহাটা গ্রামের টুটুল, কাদের, জুয়েল, শাজাহান ও রাজ্জাক জানান, সড়কটি ব্যস্ততম সড়ক। সময় বাঁচাতে ও দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাকা, ধামরাই, সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ ও মির্জাপুরের লোকজন এই সড়কটি ব্যবহার করে। তিন বছর আগে সড়কটি নির্মাণ করা হলেও নিন্মমানের কাজ হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠেছিল। এ ছাড়া সড়ক দিয়ে ভাটার মালিকরা ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়ায় ধুলার সৃষ্টি হচ্ছে। ধুলার মধ্যে আবার পানি দেওয়ায় কাদা জমে পিচ্ছিল হয়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি করছে।

সড়কে নিয়মিত চলাচলরত যানবাহনের চালক শওকত হোসেন, আরজু মিয়া, মফিজ উদ্দিন জানান, সড়কটির এমন অবস্থা হয়েছে বোঝার উপায় নেই যে সড়কটি কখনো কার্পেটিং করা হয়েছিল। ঝুঁকি নিয়ে যান চালাতে হচ্ছে বলে তারা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মির্জাপুরের কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, সড়কটিতে ৮/১০ টনের যানবাহন চলাচলের উপযোগী। সেখানে ২০/২৫ টনের যানবাহন চলাচল করছে। সড়কটি দিয়ে ২০টি ভাটা ও একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভাড়ি ট্রাক চলাচল করে থাকে। এ ছাড়া প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে মাটি ভর্তি শত শত বড় ড্রাম ট্রাক ভাটায় চলাচল করে। এ কারণে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে এবং বিশ্বব্যাংকের ব্রিজ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে তথ্য দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবেও দেখানো হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে টেন্ডার হবে বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা