kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই বছর ধরে মোবাইল স্ক্যানার বন্ধ

বেনাপোল প্রতিনিধি    

৪ মে, ২০২১ ১৪:২৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই বছর ধরে মোবাইল স্ক্যানার বন্ধ

বেনাপোল স্থলবন্দরে দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বাইপাস সড়কের মোবাইল স্ক্যানার। কাস্টমস ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সমঝোতায় না আসায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, অত্যাধুনিক এ স্ক্যানিং যন্ত্র বন্ধ থাকায় চোরাচালান বাড়ছে। তবে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, স্ক্যানিং যন্ত্র পরিচালনার জন্য অর্থের প্রয়োজন। বিষয়টি এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) জানানো হয়েছে।

বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে তিন বছর আগে চারটি স্ক্যানিং যন্ত্র বাংলাদেশকে অনুদান হিসেবে দেয় চীন সরকার। ২০১৮ সালে বেনাপোল স্থলবন্দরে ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকের প্রবেশদ্বারে একটি যন্ত্র বসানো হয়। এটি পণ্যবাহী ট্রাকে আসা রাসায়নিক, মাদক, অস্ত্র শনাক্ত করতে সক্ষম।

স্ক্যানারটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস বিনামূল্যে পরিচালনা করেছে ৬ মাস। পরে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে চুক্তিতে না আসায় বন্ধ হয়ে যায় বাইপাস সড়কের মোবাইল স্ক্যানারটির কার্যক্রম। ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, নিরাপদ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সচল রাখতে স্ক্যানিং কার্যক্রম চালু করা জরুরি।

আমদানি পণ্যবহনকারী বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজিম উদ্দীন গাজী বলেন, 'স্ক্যানিং মেশিনটি সচল থাকলে আমরাও নিরাপদ থাকতে পারি। কোনো দুষ্কৃতির মাধ্যমে বন্দর থেকে ট্রাকে অবৈধ পণ্য চালান পরিবহন হতো না'।

বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, 'বেনাপোল বন্দরের স্ক্যানিং মেশিন দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। আমরা ব্যবসায়ীরা মনে করি, নিরাপত্তার স্বার্থে স্ক্যানিং মেশিনটি পুনরায় চালু করা অতি জরুরি'।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, 'নিরাপদ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে স্ক্যানিং মেশিনটি সচল রাখা খুব জরুরি। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবেন আশা রাখছি'। 

বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল বলেন, 'বন্দরে স্ক্যানিং মেশিনটি চালু থাকলে স্বচ্ছতার দিক দিয়ে অনেকটা নিশ্চিত থাকা যায়'। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটি শিগগিরই চালু করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ফাইবার অ্যাসোসিয়েটস-এর পক্ষে প্রকৌশলী শপু বড়ুয়া বলেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ চুক্তিতে না আসায় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে স্ক্যানিং কার্যক্রম দুই বছর ধরে বন্ধ রাখা হয়েছে। চুক্তি হলে আবার কাজ শুরু করা হবে।'

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ড. মো.  নেয়ামুল ইসলাম বলেন, 'স্ক্যানার পরিচালনার জন্য এখনো সরকারের বাজেট পাওয়া যায়নি। এনবিআর থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন করে চুক্তি হবে। টেন্ডার যাচাই-বাছাই করে এনবিআরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। যে কোনো স্থলবন্দরে স্ক্যানিং মেশিন থাকা খুব জরুরি। স্ক্যানিং মেশিন স্বচ্ছ বাণিজের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে'।

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। রাজস্ব আসে ৫ হাজার কোটি টাকা। গত দুই বছরে আমদানি পণ্যের সঙ্গে লুকিয়ে আনা প্রায় ৩ টন ভায়াগ্রা ও ফেনসিডিল আটক করা হয়েছে। 



সাতদিনের সেরা