kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

মামলার ১২ দিনেও চোরাই সরকারি মাটি জব্দ করেনি পুলিশ

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

৪ মে, ২০২১ ১৩:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মামলার ১২ দিনেও চোরাই সরকারি মাটি জব্দ করেনি পুলিশ

ঢাকার ধামরাইয়ে চোরাই সরকারি মাটি স্তূপ করে রাখা হয়েছে ইটভাটায়। ছবি: কালের কণ্ঠ

ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি জমির পৌনে দুই কোটি টাকার মাটি চুরির ঘটনায় মামলা হয় ১২ দিন আগে। বিভিন্ন ইটভাটায় স্তূপ করে রাখা হয়েছে এসব চোরাই মাটি।

সরকারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট মামলায় প্রমাণস্বরূপ মালামাল জব্দ করার বিধান থাকলেও মামলা হওয়ার ১২ দিন পরও তা জব্দ করেনি পুলিশ। এ ঘটনা নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে এলাকায়। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, সানোড়া মৌজায় সরকারি জমি থেকে এসকাভেটর দিয়ে ৩৫ লাখ ২১ হাজার ৩৮০ ঘনফুট মাটি কেটে তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চুরি করে বিভিন্ন ইটভাটায় স্তূপ করে রাখা হয়, যার আনুমানিক মূল্য এক কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনসহ মোট ১৭ জনের নামে মামলা করেন কুশুরা ইউনিয়ন ভূমি  উপসহকারী কর্মকর্তা ইসহাক ভূঁইয়া।

মামলায় যেসব ইটভাটায় সরকারি মাটি চুরি করে নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে কালামপুর ও মধুডাঙ্গায় অবস্থিত একই মালিকানাধীন নূর ব্রিকস অ্যান্ড কোং, বাসনা নয়াপাড়ায় হিরু ব্রিকস, মহিশাষীর বাসনা এলাকায় টিএসবি ব্রিকস, ডাউটিয়া হিরা ব্রিকস উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের পুড়িয়ে দেওয়া এসকাভেটর একটি ইটভাটায় লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে আদালতে প্রমাণস্বরূপ চোরাই মাটি কোথায়, কী অবস্থায় আছে তা প্রমাণের জন্য পুলিশ এখনো মাটি জব্দ করেনি।

এদিকে, বাসনা নয়াপাড়ার হিরু ইটভাটার মালিক আবদুর রশিদ ও ব্যবস্থাপক আলাউদ্দিন সানোড়া মৌজা থেকে সাড়ে তিন হাজার ট্রাক মাটি এনেছেন বলে স্বীকার করেন। তবে তাঁর ভাটায় পুলিশ যায়নি বলে জানান তিনি।

এছাড়া কালামপুর নূর ব্রিকস-এর মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, 'আমার ইটভাটায় আড়াই হাজারে ট্রাক মাটি আনা হয়েছে সানোড়া মৌজা থেকে।'

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল হক বলেন, 'সরকারি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট মামলায় মালামাল জব্দ করার বিধান রয়েছে যা পুলিশ জব্দ করবে।'

ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, 'মাটি জব্দ করা হয়নি তবে ভেকু মেশিন জব্দ করা হয়েছে।' 

সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার বলেন, 'এসকাভেটর তো আমরাই জব্দ করেছি। উপজেলার সানোড়া মৌজায় গত কয়েক বছর ধরে সরকারি অর্পিত সম্পত্তির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে আসছিল একটি চক্র'।

গত ১৪ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল হক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। ওই সময় ঘটনাস্থলে কাউকে না পেয়ে দুটি এসকাভেটর ধ্বংস করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাটি চুরির ঘটনায় জড়িত ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে ধামরাই থানায় গত ২২ এপ্রিল মামলা করেন কুশুরা ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা ইসহাক ভূঁইয়া।



সাতদিনের সেরা