kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

রৌমারী মডেল মসজিদ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম    

৪ মে, ২০২১ ১২:১০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রৌমারী মডেল মসজিদ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী!

মসজিদের পিলারে ২০ মিলি রডের পরিবর্তে ১৬ মিলির রড ব্যবহার করা হচ্ছে। ছবি: কালের কণ্ঠ

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা পরিষদ চত্বরে মডেল মসজিদ নির্মাণে অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

নিম্নমানের বালু, কমগ্রেডের সিমেন্ট, পরিমাণে কম ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুরনো ইট, ২০ মিলির পরিবর্তে ১৬ মিলির রড, মসজিদের বেইজে ঢালাইয়ে পাথরের পরিবর্তে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। ঢালাইয়ের কাজে স্টিলের শাটারিং ব্যবহার বাধ্যতামূলক থাকলেও সেখানে কাঠের শাটারিং ব্যবহার করা হচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেনের ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান রবিন মসজিদটি নির্মাণে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিমন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে এই নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

কুড়িগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের প্রত্যেক উপজেলায় চারতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি বিশেষ উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে রৌমারী উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় তিনতলা বিশিষ্ট মডেল মসজিদ নির্মাণে ১২ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। এটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর ভাই মোস্তাফিজুর রহমান রবিন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে নির্মাণ কাজ শুরু হয় যার সময়সীমা ছিল ২৪ মাস।

আজ মঙ্গলবার (৪ মে) সকালে নির্মাণাধীন মসজিদটি ঘুরে দেখা গেছে, এর প্রাথমিক স্তরের কাজ চলছে। মসজিদের পিলার ও গম্বুজের কাজ চলমান দেখা গেছে। এসময় নির্মাণ শ্রমিকদের কাছে কাজের মান প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কেউ বলার আগ্রহ দেখাননি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শ্রমিক বলেন, 'মসজিদের কাজের মান খুবই খারাপ হচ্ছে। বেইস ঢালাইয়ে পাথরের খোয়া ব্যবহারের নিয়ম থাকলেও সেখানে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নমানের বালু ও কমগ্রেডের সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় পুরনো ইট, পুরনো প্লেইন রড ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে ২.৫ এফএম'র বালু ব্যবহারের কথা সেখানে ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ধুলোর মতো বালু। সিমেন্টের ব্যবহার পরিমাণমতো দেওয়া হচ্ছে না। ইট ও পাথরের খোয়া ভালোভাবে পরিষ্কার না করে ময়লাযুক্ত অবস্থায়ই ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে'। 

ওই শ্রমিক আরো বলেন, 'আমরা কামলা দেই। ঠিকাদার যেভাবে কাজ করতে বলেন সেভাবেই আমাদের করতে হয়'। 

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঠিকাদার মোস্তাফিজুর রহমান রবিন নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কথা অস্বীকার করে বলেন, 'আমি নিয়ম অনুযায়ী নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছি। যদি কেউ বলে থাকেন তাহলে মিথ্যা বলেছেন'।

এ প্রসঙ্গে কুড়িগ্রাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্বে থাকা উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন বলেন, 'কোনো ধরনের অনিয়ম আমরা মেনে নেব না। আপনারা হয়তো জানেন ডি-ফর্ম ব্যতীত অন্য সব রড পিলার থেকে খুলে নিতে বাধ্য করেছি ওই ঠিকাদারকে'।



সাতদিনের সেরা