kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

স্টেশনের ছিন্নমূল মানুষকে খাইয়ে আনন্দ পান তিনি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১ মে, ২০২১ ২১:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্টেশনের ছিন্নমূল মানুষকে খাইয়ে আনন্দ পান তিনি

‘রাজা’ পুরো নাম আজিজুল হক রাজা। পেশায় একজন মৎস্য ব্যবসায়ী। বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌর শহরের ঢাকাপট্রি মহল্লার মরহুম মনছুর আলীর ছেলে তিনি। চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে রাজাই ছোট। বয়সে ছোট হলেও মানবিকতার দিকে অবশ্য তিনিই সবচেয়ে বড়। করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপাকে পড়া স্টেশনের অর্ধশতাধিক ছিন্নমূল মানুষের মুখে নিয়মিত তিন বেলা খাবার তুলে দেওয়ায় তার মানবিকতার বিষয়টি আরো ফুটে উঠেছে।

দ্বিতীয় দফায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে ফের লকডাউন শুরু হলে তিনি বিপাকে পড়া ছিন্নমূল মানুষদের নিয়মিত দুই বেলা খাবার খাওয়াচ্ছেন। দুস্থ, অসহায় ও ছিন্নমুল মানুষের প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে এলাকাবাসি এখন তাকে ‘গরিবের রাজা’ বলে ডাকেন।

শনিবার দুপুরে ছিন্নমূলদের খাবারদাতা আজিজুল হক রাজা কালের কণ্ঠকে বলেন, বাবা সান্তাহারে রেলওয়ের ড্রাইভার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সেই থেকে সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আসা যাওয়া। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকার গতবছর প্রথমবারের মতো লকডাউন ঘোষণা করলে সারা দেশের ন্যায় সান্তাহারেও বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন, বাসসহ অন্য গণপরিবহণগুলো। জনশূন্য হয়ে পড়ে স্টেশন এলাকা। এরপর নিজ উদ্যোগে গত বছরের ২৪ মার্চ রাত থেকে রান্না করে স্টেশন এলাকার ছিন্নমূল মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ শুরু করেন। তবে দিন যতো বাড়ছিল ছিন্নমূলদের সংখ্যাও ততোই বাড়ছিল। ৪ এপ্রিল পর্যন্ত অর্ধশতাধিক এসব ছিন্নমূল মানুষের জন্য প্রতিদিন তাকে তিন বেলা খাবার ব্যবস্থা করতে হয়। করোনা মোকাবিলায় দ্বীতিয় দফায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে ফের লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। এবারও বিপাকে পড়া এসব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। এবার তাকে প্রতিদিন দু’বেলা খাবার দিতে হচ্ছে মাত্র ৮-১০ জনকে।

তিনি আরো জানান, সমাজে অনেক বিত্তশালী মানুষ রয়েছে। কিন্তু কেউ তাদের খোঁজখবর নেয় না। ক্রান্তিকালে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে খুব ভালো লাগছে। ট্রেন চলাচল শুরু হওয়া পর্যন্ত খাবার খাওয়ানো অব্যহত রাখবেন বলেও জানান তিনি। এই মহৎ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে ব্যবসায়ী নাহিদ সুলতানা তৃপ্তি বলেন, লকডাউনে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ান রাজা। তার এই উদ্যোগ আসোলেই মহৎ।

উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজার মতো সমাজের অন্যদেরও এভাবে এগিয়ে আসা উচিৎ। তাহলে করোনা মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত লকডাউনের মধ্যে ছিন্নমূলদের অন্তত ক্ষুধার জ্বালা মেটানো সম্ভব হবে।



সাতদিনের সেরা