kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

তীব্র তাপদাহে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

বেতাগী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১ মে, ২০২১ ১৫:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



তীব্র তাপদাহে পুড়ছে কৃষকের স্বপ্ন

উপকূলীয় জনপদে বৃষ্টি নেই সাত মাসের বেশি সময় ধরে। সেচ দিয়ে মাঠে লড়াই করে তৈরি করা বীজতলা। দীর্ঘ সময় বৃষ্টির দেখা না মেলায় এ অবস্থায় আউশ ধানের বীজতলা তৈরি করতে বা বাঁচাতে সমস্যায় পড়ছেন বরগুনার বেতাগীর  চাষিরা। সেই সঙ্গে ফসলের মাঠ, খাল-বিল ও ডোবা-নালার পানি শুকিয়ে শূন্য জলাধার। দীর্ঘদিন ধরে অনাবৃষ্টি ও জোয়ারের পানি আশানুরূপ বৃদ্ধি না পাওয়ায় ইরি-বোরো ও আউশ মৌশুমের বীজতলা ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় গ্রীষ্মের প্রচন্ড তাপদাহে আবাদি জমি পুড়ছে।

বীজতলায় এখনই পানির বেশি প্রয়োজন ও আদর্শ সময়। বৃষ্টির জন্য আরো অপেক্ষা করতে হলে আউশ মৌসুমে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে। এ উপকূলীয় জনপদের কৃষকরা যুগ যুগ ধরে চাষাবাদ করে আসলেও এমন অবস্থা আর দেখিনি। এভাবে চলতে থাকলে চাষাবাদে দেরি হবে। চাষিদের একটা অংশের ধারনা এখন বৃষ্টিপাত হলে কোনোমতে বীজতলা বাঁচবে। তবে বিলম্বিত হলে চাষাবাদের প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়নে-সর্বত্রই কমবেশি ভুগছেন চাষিরা। বিভিন্ন এলাকায় জমি ফেঁটে চৌচির হয়ে উঠেছে। এতে কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন অনাবৃষ্টি ও খরতাপে এ জনপদে ডায়রিয়া মহামারী  আকারে ধারন করে। এ কারণে করোনার চেয়েও ডায়রিয়ায় আতঙ্কে ভুগছে মানুষ।

বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি প্রাকৃতিকভাবে মাঠে প্রবেশের পর কৃষকরা সাধারণত ধান আবাদের জন্য জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করে। তবে অনেকেই এবার পানির অভাবে ধান রোপণ করতে পারছেন না। এ উপজেলায় কৃষকরা পানিসেচ দিয়ে বীজতলা তৈরি করলেও বীজ বপন করা নির্ভর করে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির উপর। এ বছর বৃষ্টিপাত না হওয়ার মাঠ ফেঁটে চৌচির হয়ে আছে। এদিকে বীজতলা বপন করলেও বৃষ্টির অভাবে চাষিরা আউশ ফসলের মাঠ চাষ না করে অনাবাদি রয়েছে।

একাধিক কৃষকরা জানান, বারবার সেচ দিয়েও বীজতলা শুকিয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি না হলে বীজতলা বাঁচানো কঠিন। পুকুরের পানি সেচ করে বীজতলায় দিয়েছিলেন। তাও শেষ। এখন বীজতলা কী ভাবে বাঁচাবে, তা জানেন না।



সাতদিনের সেরা