kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নিষেধাজ্ঞা উঠলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ

ফারুক আহম্মদ, চাঁদপুর    

১ মে, ২০২১ ১০:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিষেধাজ্ঞা উঠলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ

সরকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার জলে জাল পড়েছে জেলেদের। তবে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাচ্ছেন না তাঁরা।

আজ শনিবার (১ মে) ভোর থেকে জেলার নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। কারো কারো জালে ছোট আকারের দু-চারটি ইলিশ ধরা দিচ্ছে। মিলছে অন্য প্রজাতির কিছু মাছও।

এর আগে গত মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস জাটকা সংরক্ষণে নদীতে সবধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা গতকাল শুক্রবার (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। এরপরই মাছ ধরার জাল ও নৌকা নিয়ে দলবেঁধেই নদীতে নেমে পড়ে জেলেরা।

চাঁদপুর সদর উপজেলার উত্তর গোবিন্দিয়া গ্রামের জেলে বারেক রাঢ়ীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, এনজিওর ঋণের কিস্তি আর দাদনদারের কাছে অনেক ধারদেনা। তা ছাড়া গত দুই মাস বেকার ছিলেন। এতে পরিবারের সাত সদস্য নিয়ে নিদারুণ কষ্টে পড়েছেন। কিন্তু এখন কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেলে দুর্ভোগ আরো বেড়ে যাবে। এরই মধ্যে ঈদও চলে আসছে।

পাশের আখনেরহাটের রহিম গাজী নামের আরেক জেলেও বারেক রাঢ়ীর সুরেই কষ্টের কথা জানালেন। একই অভিব্যক্তি চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় মাছ শিকার করেন এমন হাজারো জেলের।

এদিকে, জেলা শহরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছঘাটেরও অভিন্ন চিত্র। আজ শনিবার ভোর থেকেই সেখানে সুনশান নীরবতা চলছে। তবে মাছ ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে আছেন। কারণ, তাদের অনেকের আগাম টাকা দেওয়া আছে জেলেদের কাছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতার মাঝেও জাটকা নিধন করেছে একশ্রেণির অসাধু জেলে। তবে তাদের সিংহভাগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন জাটকা, ৪২ কোটি মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, সরকারের খাদ্য সহায়তা হিসেবে দুই মাসে প্রত্যেক জেলে পরিবারকে ৮০ কেজি হারে চাল দেওয়া হয়েছে।

দেশের অন্যতম মৎস্য বিজ্ঞানী, ইলিশ গবেষক ডা. আনিছুর রহমান বলেন, 'ইলিশ পরিভ্রমণশীল মাছ। প্রতিনিয়ত চক্রাকারে স্রোতের বিপরীতে ঝাঁকবেঁধে চলে। সুতরাং জেলেদের অধৈর্য হলে চলবে না। একটু অপেক্ষা করতে হবে। বৃষ্টিপাত এবং পানির স্রোত বেড়ে গেলেই তখন কাঙ্ক্ষিত ইলিশ জালে পড়বে'।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, এই জেলার প্রকৃত জেলে অর্থাৎ যারা বড় নদীতে ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকার করেন- এমন জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে তাদের প্রত্যেকের ব্যাংক হিসাব খোলা হবে। যাতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বেকার হয়ে পড়া জেলেরা আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসব প্রান্তিক জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে এধরনের একটি প্রস্তাবতা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।



সাতদিনের সেরা