kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

আ.লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

সালিশ বৈঠকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা

অনলাইন ডেস্ক   

৩০ এপ্রিল, ২০২১ ১০:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আ.লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ

শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ কর্মীর বিরুদ্ধে। সালিশি বৈঠকের নামে এলাকার প্রভাবশালীরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে ও আইনের আশ্রয় না নিতে শিশুটির পরিবারকে চাপ দিচ্ছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের মুলাদী উপজেলার চরকালেখান ইউনিয়নের বড়কান্দি গ্রামে।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ কর্মীর নাম জলিল হাওলাদার। তিনি ওই গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম হাওলাদারের ছেলে। তার এক ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

শিশুটির মা জানান, জলিল হাওলাদার আমাদের প্রতিবেশী। বুধবার দুপুরে জলিল হাওলাদার কলাগাছের পাতা কাটার জন্য তার ছেলেকে ডেকে নেন। বাগানে নিয়ে তার ছেলেকে মুখ চেপে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন তিনি। ছেলের চিৎকারে তার দাদি সেখানে গেলে জলিল হাওলাদার পালিয়ে যান। পরে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে মুলাদী থানার এএসআই  বাদল হোসেন তার ছেলেকে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

তিনি বলেন, “এসময় গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সালিশি বৈঠক করে জলিল হাওলাদারকে শাস্তি দেওয়ার কথা বলেন এবং আমার ছেলেকে বরিশাল মেডিক্যালে না নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা করানোর কথা বলেন। তারা এ নিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে নিষেধ করেন। তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে সমস্যা হতে পারে। ক্ষতির আশঙ্কা আছে। এজন্য সালিশে যে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে, তা যেন মেনে নেওয়া হয়। এতে পরবর্তীতে আর সমস্যা হবে না।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে তার বাড়িতে সালিশ বসে। সেখানে জলিল হাওলাদার, তার ছেলে ছাত্রলীগ নেতা মো. ফেরদৌস ছাড়াও দিদার তালুকদার, সবুজ মেম্বার, মালেক মেম্বার, মামুন সরদার ও নাসির সরদারসহ গ্রামের কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। সালিশে জলিল হাওলাদারকে আমাদের কাছে ক্ষমা চাওয়ানো হয়। এরপর তাকে ছয় হাজার টাকা জরিমানা করেন তারা। সেই ছয় হাজার টাকা আমাদের দেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “গ্রামে জলিল হাওলাদারের প্রভাব আছে।  তাদের টাকা আছে। আমরা গরিব। সালিশের বিচার মেনে নেওয়া ছাড়া আমাদের কোনও উপায় ছিল না। গ্রামে তাদের শত্রু হয়ে থাকা যাবে না। তাই বাধ্য হয়েই সালিশদারদের বিচার মাথা পেতে মেনে নিতে হয়েছে।”

এ ব্যাপারে মুলাদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাকসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কোনও অভিযোগ থানায় দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা