kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

ঈশ্বরদীতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি    

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:৪৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈশ্বরদীতে ঘরে ঢুকে গৃহবধূকে হত্যা

ঈশ্বরদীতে এবার দিনের বেলায় প্রকাশ্যে ঘরে ঢুকে মুক্তি খাতুন রিতা (২৭) নামের এক গৃহবধূকে গলা কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈশ্বরদী পৌরসভার মশুড়িয়াপাড়া এলাকায় লোমহর্ষক এই ঘটনা ঘটে।

নিহত রিতা ওই এলাকার বসির উদ্দিন বাদলের ছেলে বায়েজিদ সারোয়ারের স্ত্রী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে ঈশ্বরদী থানা পুলিশ। এর আগে চলতি মাসের ১ তারিখে ঈশ্বরদী শহরের স্কুলপাড়ায় আনোয়ারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধাকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। দুটি ঘটনা একই সময় ঘটেছে। এ ঘটনাগুলোতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে শহরের সাধারণ মানুষ। 

হত্যাকাণ্ডের সময় রিতার শাশুড়ি মোছা. নীলিমা খাতুন বেনুকেও (৫৫) গলা টিপে ও শ্বাস রোধে  হত্যার চেষ্টা করা হয়। সে সময় তাঁর চিৎকারে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। হত্যাকারীরা সংখ্যায় পাঁচজন ছিল বলে নীলিমা খাতুন বেনু উপস্থিত পুলিশ ও সাংবাদিকদের জানান। পাবনা পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির ও পৌরসভার মেয়র ইছাহক আলী মালিথা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী নিহত গৃহবধূ রিতার শাশুড়ি নীলিমা খাতুন বেনু জানান, তাঁর ছেলে বায়েজিদ সারোয়ার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরি করেন। সেই সুবাদে বায়েজিদ সারোয়ার বেশ কিছু মানুষকে রূপপুর প্রকল্পে চাকরিও দিয়েছেন। ঘটনার দিন সকাল ১১টার সময় পাঁচজন যুবক চাকরির জন্য তার বাড়িতে আসেন। বায়েজিদ সেই সময় বাজারে ছিল। তাই পুত্রবধূ মুক্তি খাতুন রিতা আগত যুবকদের ড্রইংরুমে বসিয়ে আপ্যায়ন করেন। 

তিনি আরো জানান, এ সময় তিনি তাঁর নিজ রুমে বসে কোরআন শরিফ পড়তেছিলেন। হঠাৎ ওই যুবকরা তাঁর ঘরে ঢুকে গলা টিপে শ্বাস রোধে হত্যার চেষ্টা করে। সে সময় তিনি চিৎকার শুরু করলে ওইসব যুবকরা পালিয়ে যান। পরে তিনি পুত্রবধূ রিতার ঘরে যান এবং রিতাকে মেঝেতে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। হত্যাকারীদের মধ্যে তিনি একজনকে চিনতে পেরেছেন। তার নাম সাব্বির হাসান, বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চরগোবিন্দপুর গ্রামে। বাকিদের মুখে মাস্ক থাকায় তিনি চিনতে পারেননি বলেও দাবি করেন।

নিহত গৃহবধূ রিতার স্বামী বায়েজিদ সারোয়ার জানান, তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বাংলা পাওয়ার কম্পানিতে চাকরি করেন। রূপপুর প্রকল্পে চাকরির জন্য তাঁর নানির বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার জোনাইল চরগোবিন্দপুর গ্রাম থেকে কিছু মানুষ বাড়িতে আসার কথা শুনে বাজারে গিয়েছিলেন বাজার করতে। এসে দেখেন তাঁর স্ত্রী মুক্তি খাতুন রিতার গলা কেটে হত্যা করা লাশ। তাঁর মায়ের কাছ জানতে পারেন, ওই দুর্বৃত্তরা তাঁর নানির বাড়ির এলাকার। তবে তিনি কাউকে দেখেননি।

এলাকাবাসী জানায়, বায়েজিদ সারোয়ার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে চাকরির কারণে টাকার বিনিময়ে অনেক মানুষকে চাকরি দিয়েছেন। হয়তো চাকরির জন্য টাকা-পয়সা লেনদেনের বিষয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফিরোজ কবির জানান, এই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সিআইডির বিশেষ টিম এসে সুরত হাল রেকর্ড করে লাশ ময়নাতদন্তে প্রেরণ করা হবে। এ ব্যাপারে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।



সাতদিনের সেরা