kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি   

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার ডাংধরা ইউনিয়নে সরকারি খাস জমিতে মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বিশেষ উপহারের ঘর নির্মাণ কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার (২৮ এপ্রিল) থেকে এখন পর্যন্ত ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ আছে। গতকাল জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রফিকুল ইসলাম এসে নির্মাণ কাজ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলেও তা কার্যকর হয়নি। স্থানীয় শরবত আলীসহ এলাকার কিছু প্রভাবশালী মিলে কাজ বন্ধ রেখেছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ভূমিহীন গৃহহীনদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ডাংধরা ইউনিয়নের নিমাইমারী পূর্ব পাড়া গ্রামের কারখানা মৌজার ৭৩৪৯ নম্বর দাগের খাসজমি নির্বাচন করে গাছপালা কেটে আগাছা পরিষ্কার করে বিভিন্ন অস্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

গত কয়েকদিন দিন আগে সেখানে ৫টি ঘরের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। খাস জমি উদ্ধার করে ঘরের নির্মাণকাজে প্রাথমিক দিকে সবাই সহযোগিতা করে কিন্তু ঘরের কাজ এগোতে থাকলে স্থানীয় শরবত আলী নামে এক ব্যক্তি উক্ত জমির মালিকানা দাবি করে। তিনি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে উক্ত স্থানে সরকারি ঘর নির্মাণ কাজে বাধা প্রদান করেন।

শরবত আলী জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগনামা দাখিল করে ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়ী করে। এডিসি এসে বিষয়টি সমাধান না করার আগ পর্যন্ত ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য এক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা নির্মাণ মিস্ত্রিদের নির্দেশ প্রদান করেন বলে জানা যায়।

শরবত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ১০০ বছর আগে থেকেই জমিটি আমার বাপ-দাদার সম্পত্তি, কিন্ত দুটি রেকর্ড মিস হওয়াতে খাস হয়ে গেছে। আমি ভূমিহীন এর জন্য আবেদন করেছি। আমি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি। আমার জমিটি যেন ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

উদ্ভূত সমস্যাটি সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক মোর্শেদা জামানের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল ২৮ এপ্রিল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রফিকুল ইসলাম সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামানকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আজিজুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা রোকন উদ্দিন, শরবত আলীসহ স্থানীয় গণ্যমান্যদের সাথে নিয়ে  দুই ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা করে ঘরের নির্মাণ কাজ চালু রাখার নির্দেশ দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তারপরও নির্মাণকাজ চালু করতে পারেনি মিস্ত্রিরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা এনামুল হাসান জানিয়েছেন, গতকাল থেকে এখন পর্যন্ত ঘরের নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে, বিষয়টি দেখতে আমরা সেখানে যাচ্ছি।

জামালপুরের জেলা প্রশাসক মোর্শেদা জামান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, যেখানে কাজ শুরু হয়েছে সেখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ভূমিহীন গৃহহীনদের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পের কাজ অব্যাহত থাকবে। কাজটি যেন সুন্দরভাবে হয় সে জন্য তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

দেওয়ানগঞ্জ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, জমিটি নিষ্কণ্টক। আমরা কোনো ব্যাক্তির জমিতে নয় সরকারি খাস জমিতে ঘর নির্মাণ করছি। কিন্তু একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে এই সরকারি ঘর নির্মাণ কাজে বিরাট প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।



সাতদিনের সেরা