kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

লক্ষ্য পরিকল্পিত মাছ চাষ

১৯ বিল-পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছে রংপুরে

রংপুর অফিস    

২৯ এপ্রিল, ২০২১ ১১:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



১৯ বিল-পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছে রংপুরে

রংপুরে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতায় 'জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ১৯টি বিল-পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছে।

প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ৫৬ হেক্টর জলাশয় সংস্কারের আওতায় আসবে। এতে পরিকল্পিত মাছ চাষের মাধ্যমে প্রায় ৫৫০ মেট্রিক টন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, যার আনুমানিক মূল্য হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা।

বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও মাছের উৎপাদন গতিশীল রাখার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিত নির্দেশনায় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গৃহীত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রংপুর জেলায় ৩৭টি গুচ্ছগ্রামের পুকুরের মধ্যে এবছর তিনটি পুকুর পুনঃখননের কাজ চলছে, যা বর্তমানে প্রায় ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব পুকুর হলো বদরগঞ্জ উপজেলার দামুয়াপুকুর, পীরগঞ্জ উপজেলার বগেরবাড়ী এবং গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল গুচ্ছগ্রামের পুকুর। পুনঃখনন কার্যক্রম গ্রহণের ফলে অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা সরকারি জলাশয় উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেছে।

রংপুর সদরের চিকলিবিলসহ কয়েকটি এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, জলাশয় পুনঃখননের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

স্থানীয় সুফলভোগীরা জানায়, জলাশয় পুনঃখনন তাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল এবং মৎস্য অধিদপ্তর তাঁদের সেই স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে। জলাশয় সংস্কার হওয়ায় এর ইজারামূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বৃদ্ধি পাবে, যা জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে মৎস্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সুফলভোগীদের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, রংপুর অঞ্চল বরেন্দ্র প্রকৃতি হওয়ায় জলাশয়ের পানি ধারণক্ষমতা অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম এবং রংপুর জেলার তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ার ফলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। ফলে এ অঞ্চলের অধিকাংশ জলাশয়ে সারা বছর পানি থাকে না। আবার প্রাকৃতিক ও সামাজিক কারণে পুকুর-ডোবা, খাল-বিল, বরোপিট ও নদী-নালায় পলি জমে ভরাট হয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও অবাধ বিচরণের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এসব জলাশয় সংস্কার ও পুনঃখননের মাধ্যমে দেশীয় প্রজাতির মাছের আবাস্থল পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি জলাশয়ের পরিবেশ ও প্রতিবেশ উন্নয়নে প্রকল্পটির কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরো জানান, রংপুর জেলায় মৎস্য সম্পদের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দরিদ্র মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়ন ও আয় বৃদ্ধিতে জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



সাতদিনের সেরা