kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

স্পর্শকাতর স্থান কেটে ফেলায় নবজাতকের মৃত্যু, মায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্পর্শকাতর স্থান কেটে ফেলায় নবজাতকের মৃত্যু, মায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতকের শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থান কেটে ফেলায় মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সেই সাথে প্রসূতি মা মমিনা বেগমের (২৩) জরায়ু কেটে ফেলায় তারও অবস্থা আশংকাজনক বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন করার সময় ওই ঘটনা ঘটে। মমিনা বেগম সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি ইউনিয়নের সাকোয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের স্ত্রী। এদিকে হসপিটালের রেজিস্ট্রেশন না থাকায় বুধবার হসপিটালটি সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার সকালে তার স্ত্রী মমিনা বেগমের প্রসব বেদনা উঠলে বেলা ১২টার দিকে তাকে নেওয়া হয় বোনারপাড়া ডিজিটাল হাসপাতালে। পরে রোগীর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই সাড়ে ১২টার দিকে তার সিজারিয়ান অপারেশন করেন মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. খোরশেদুর রহমান পাপ্পু ও ডা. রাকিবুল হাসান রাকিব। অস্ত্রপচারের পর জানান হয় কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন হাবিবুর রহমান।

তবে অপারেশনের সময় চিকিৎসকের অদক্ষতায় নবজাতকের স্পর্শকাতর বিভিন্নস্থান কেটে ফেলায় একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়। এরপর বিকেলে বিষয়টি গোপন করতে কার্টুনবন্দি করে নবজাতকের মরদেহ দেওয়া হয় পরিবারকে। সন্ধ্যায় নবজাতকটিকে বাড়িতে নিয়ে কার্টুন খুলে তার শরীরে কাটা ছেঁড়ার দাগ দেখে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। তারা প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের হাসপাতাল থেকে গলাধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়ে হাসপাতালের গেটে তালা ঝোলানো হয়। হাবিবুর রহমান বলেন, আমার বাচ্চার প্রস্রাব আর পায়খানায় রাস্তা কেটে ফেলেছে।

প্রসূতির ভাতিজা নূর মোহাম্মদ অভিযোগ করে বলেন, ডাক্তারের ভুলের জন্য নবজাতকের প্রাণ গেছে। চাচিরও জরায়ু‚ কেটে ফেলছে তারা। আমরা তাদের শাস্তি চাই।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কথা বলতে রাজি হননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর দেখা মেলে অভিযুক্ত মেডিক্যাল অফিসার ডা. খোরশেদুর রহমান পাপ্পুর সঙ্গে। তিনি জানান, প্রসূতির অস্ত্রপচারের সময় তিনি অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন। আর অস্ত্রপচার সম্পন্ন করেন ডা. রাকিবুল হাসান রাকিব। তবে এর বেশি তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।

হাসপাতালের দায়িত্বরত সেবিকা দিপা আকতার জানান, কোনো এক পল্লী চিকিৎসক প্রসূতির শরীরের ১২টি ইনজেকশন পুশ  করেন। এ কারণেই নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে রাত সাড়ে দশটার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বোনারপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের কর্মকর্তা হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তবে তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি।

বোনারপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এস আই এনায়েত কবীর বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর আছে। তবে পুরো বিষয়টি ইউএনও দেখবেন।

এ ঘটনার পর বুধবার সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, হাসপাতালে যে চিকিৎসক অপারেশন করেছেন, তার রেজিস্ট্রেশন রয়েছে। কিন্তু হসপিটালের রেজিস্ট্রেশন নেই। তাই এটি সিলগালা করা হয়েছে। নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাটি চিকিৎসা সংক্রান্ত। তাই এই ঘটনাটি তদন্ত করতে সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করা হয়েছে।

এসব বিষয়ে বোনারপাড়া ডিজিটাল হসপিটালের একজন মালিক আজগর আলীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।  



সাতদিনের সেরা