kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

আঠারোবাড়িতে কর্মহীনদের জন্য 'ফ্রি বাজার'

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আঠারোবাড়িতে কর্মহীনদের জন্য 'ফ্রি বাজার'

করোনাকালে অসহায় ও কর্মহীন মানুষদের জন্য ফ্রি বাজার। আর রমজান জোরে সপ্তাহে এক দিন ব্যতিক্রম এই বাজার চলছে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারোবাড়িতে।

আজ বুধবার তৃতীয় দিনের মতো এই বাজারে ৩০০ পরিবারকে দেওয়া হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। মাছ, আলু থেকে শুরু করে অনেক ধরনের সবজি দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় ফ্রিতে বাজার করতে পেরে মহা খুশি অসহায় ও কর্মহীন মানুষরা।

লকডাউনের জেরে মানুষের হাতে কাজ নেই, নেই নগদ টাকা। সেই কারণেই তাদের জন্য ফ্রি বাজারের ব্যবস্থা করে ‘মুক্তির বন্ধন ফউন্ডেশন’ নামে একটি সংগঠন। তারা বাজারটিতে মাছ ছাড়াও খেজুর, মুড়ি ও বিভিন্ন জাতের সবজির ব্যবস্থা করেন। তৃতীয়বারের মতো বুধবার ৩০০ পরিবারকে এই বাজারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। সকাল ১০টায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ইরা গ্যাস স্টেশন চত্বরে বিনা মূল্যের হাটটি চলছে।

হাটে গিয়ে দেখা যায়, সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। চত্বরের এক পাশে প্যান্ডেলের নিচে রাখা টেবিলে তাজা মাছ, থলে থলে সাজানো নানা ধরনের সবজি। ওই হাটে আগত নারী-পুরুষদের হাতে তাদের পছন্দমতো পণ্য তুলে দিচ্ছে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা। কিছু তরুণকে দেখা গেল হাটুরেদের তাপমাত্রা মাপার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি পালন করার বিষয়ে নজরদারি করছেন।

বাজারে আসা ১০ জন নারী পুরুষ  জানান, তাদের ঘরে এখনো চাল রয়েছে। তবে ভাত খেতে হচ্ছে সামান্য জিনিস জোগাড় করে। আর এ অবস্থায় এই বাজারে দেওয়া হচ্ছে কাঁচা মরিচ, বেগুন, ঢেঁড়স, দুই জাতের লাউ, টমেটো, আলু ছাড়া খেজুর ও মুড়ি। আর এই ফ্রিতে বাজার পেয়ে তারা বেজায় খুশি।

বুধবার এই বাজারে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন ও কৃষি কর্মকর্তা সাধন কুমার গুহ মজুমদার। এই বাজারের উদ্যোক্তা ‘মুক্তির বন্ধন ফউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, তাদের সংগঠনের সদস্য ও শুভাকাঙক্ষীদের অর্থায়নে ফ্রি বাজারটি পরিচালিত হচ্ছে। দিন দিন এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আঠারোবাড়ি ইউনিয়নের মনগাঁও গ্রাম থেকে বিনা মূল্যের হাটে এসেছেন শারীরিক প্রতিবন্ধী আজিজুল ইসলাম। তিনি চার-পাঁচ পদের সবজি, একটি তাজা মাছ নিয়েছেন। তিনি টাটকা মাছ পেয়ে চিৎকার দিয়ে বলেন, মাশাআল্লাহ,বাজারে জিনিস যারা মাগনা দিছে তারারে যেন আল্লায় ভালা করে। শারীরিক প্রতিবন্ধী আয়েশা (৫০) ফ্রি জিনিসপত্র পেয়ে বলেন, এই জিনিস দিয়া কয়েক দিন চলব।

মুক্তির ফাউন্ডেশনের কর্মসূচি সংগঠক অনিক কুমার নন্দী বলেন, করোনা সংক্রমণের সময় বিপাকে পড়া হতদরিদ্র মানুষকে রমজান উপলক্ষে সাহায্য করা হচ্ছে। প্রত্যেক জায়গায় এ ধরনের ফ্রি হাট বসিয়ে লোকজনকে সহায়তা করার জন্য ধনাঢ্য ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা দরকার।

কর্মসূচি সমন্বয়ক মো. আজহারুল ইসলাম পলাশ বলেন, হাটের কার্যক্রম রমজান মাস জুড়ে সপ্তাহে এক দিন চলবে। চাহিদা ও অগ্রাধিকার ভিত্তেতে ফ্রি সামগ্রীতে নতুন নতুন পণ্য যুক্ত হতে পারে। 



সাতদিনের সেরা