kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

বগুড়ার শেরপুর

দুই নেতার দ্বন্দ্বে ৫০০ পরিবারের ভাগ্যে জুটল না প্রধানমন্ত্রীর উপহার

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:২৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুই নেতার দ্বন্দ্বে ৫০০ পরিবারের ভাগ্যে জুটল না প্রধানমন্ত্রীর উপহার

বগুড়ার শেরপুরে সরকারদলীয় দুই নেতার দ্বন্দ্বের জেরে তালিকা তৈরিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় ৫০০ দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের ভাগ্যে জোটেনি প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার উপহার সামগ্রী। ফলে মহামারি করোনা ও পবিত্র রমজান উপলক্ষে বর্তমান সরকারের নেওয়া এই মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের কোনো সুফলই পেলো না এই অঞ্চলের মানুষ। একইসঙ্গে ওই সব অসহায় দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।

ভুক্তভোগী আবুল কালাম আজাদ, সোলায়মান আলী, সুফিয়া বেগম, কালু মিয়াসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের জন্য ত্রাণ পাঠাইছেন। সে মোতাবেক চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তাদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। কিন্তু বিগত সাত দিন ধরে ঘুরেও কোনো ত্রাণ পাইনি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পবিত্র রমজান ও করোনা উপলক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে এই উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের পাঁচ হাজার দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের অনুকূলে পঁচিশ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নকে দুই লাখ পঞ্চাশ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। এসব টাকায় চাল, ডাল, তেল ও আলু কিনে ৫০০ দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করতে বলা হয়। এক্ষেত্রে প্রত্যেক পরিবারকে ৫০০ টাকার ওইসব নিত্যপণ্য কিনে প্রধানমন্ত্রীর উপহার লেখা একটি চটের ব্যাগে ভরে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সূত্রটি জানায়, ইতিমধ্যে প্রায় সব ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার এই উপহার সামগ্রী বিতরণ শেষ গেলেও খামারকান্দি ইউনিয়নে এটি সম্ভব হয়নি। বিতরণের শেষ সময় পার হয়ে গেলেও অদ্যাবধি এই ইউনিয়নের ৫০০ দরিদ্র ও দুস্থ পরিবার প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মানবিক সহায়তার উপহার সামগ্রী পাননি। এমনকি সুফলভোগী দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে জমা দেওয়া হয়নি বলে সূত্রটি জানায়।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব ঘটনার সত্যতা স্বীকার বলেন, এক্ষেত্রে তার পরিষদের কোনো গাফিলতি নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্ব স্ব ওয়ার্ডের মেম্বাররা তালিকা করেছেন। তবে শতকরা ত্রিশটি কার্ড আওয়ামী লীগের দলীয় কোঠা হিসেবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদককে ছেড়ে দেওয়া হয়। সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এছাড়া সরকারদলীয় এই দুই নেতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ায় তারা দুজনই পৃথকভাবে তালিকা করেছেন। তাদের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় তালিকা তৈরিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ফলে দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারগুলোর মাঝে বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার সামগ্রী প্যাকেটজাত করে রাখা হলেও অদ্যবধি বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অত্র ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি লুৎফর রহমান বলেন, তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে তাকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়। সেইসঙ্গে তার কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিথ্যাচার করেছেন। তাই বিগত কয়েক দিন ধরে তালিকা তৈরিতে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এসব উপহার সামগ্রী বিতরণও বন্ধ রয়েছে। এজন্য ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দায়ী করেন তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আয়নাল হোসেন বলেন, তার সভাপতি অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গরীব মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ত্রাণ সামগ্রীতেও ভাগ বসিয়েছেন। আর এসব কাজের প্রতিবাদ করায় তার সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। তাই মানবিক সহায়তার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রেও অভিযোগ ও নানাভাবে বাধা দিচ্ছেন তিনি। যার কারণে এসব খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা যাচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. ময়নুল ইসলাম বলেন, খামারকান্দি ইউনিয়নে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার উপহার সামগ্রী বিতরণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। উভয়ের মধ্যে সমঝোতাও হয়ে গেছে বলে শুনেছি। এছাড়া এসব খাদ্য সামগ্রী দ্রুত দরিদ্র ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা