kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

নন্দীগ্রামে বছর না পেরোতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাড়িতে ফাটল

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০৯:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নন্দীগ্রামে বছর না পেরোতেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বাড়িতে ফাটল

উদ্বোধনের বছর না পেরোতেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে দেওয়া 'বাড়ি'তে দেখা দিয়েছে ফাটল। ফলে আশ্রয় নেওয়া ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর পরিবারগুলো এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। বাড়ি পাওয়া পরিবারগুলোর চোখে মুখে দুশ্চিন্তার ভাঁজ।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে গত ২০১৯-২০ অর্থবছরে উপজেলায় নন্দীগ্রাম সদর ইউনিয়নের ইউসুবপুর ও হাটলাল গ্রামে ১০টি সেমিপাকা (আধাপাকা) বাড়ি নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি বাড়ির বরাদ্দ নির্মাণ করতে ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। আর এসব ঘর ভূমিহীনদের মাঝে বুঝিয়ে দেওয়া হয় নামফলক অনুযায়ী গত বছরের আগস্ট মাসে। বাড়িগুলো পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর (আদিবাসী) পরিবারগুলো। তবে বছর না পেরোতেই ফাটল দেখা দিয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ির দেয়াল, মেঝে ও বারান্দার পিলারে। ফলে এসব বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার ইউসুবপুর গ্রামে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বেশ কয়েকটি বাড়ি ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বাড়ির দেয়াল, মেঝে ও বারান্দার পিলারে ফাটল ধরেছে। বারান্দার পিলার ভেঙে পড়ার উপক্রম। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকটাই তড়িঘড়ি করে ঘরগুলো নির্মাণ ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার না করার কারণেই এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর উপহার পাওয়া উজ্জল উরাও, দিনেশ চন্দ্র দাস বলেন, 'উদ্বোধনের পরই বেশ কয়েকটি বাড়ি ফাটল ধরেছে, তার কারণ বাড়ি নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে এসব ফাটল ধরা বাড়িতে থাকতে ভয় লাগছে। আমরা দরিদ্র মানুষ বলেই বাড়ি পেয়েছিলাম। কিন্তু এমন বাড়ি পেলাম যে ঘরে থাকা এখন ঝুঁকির ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।' ঘর নির্মাণে যারা অনিয়ম করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ক্ষিতিশ চন্দ্র দাস বলেন, বাড়ি নির্মাণে সিমেন্ট কম দেয়া হয়েছে এবং ব্যবহার করা হয়েছে নিম্মমানের বালু। যার কারণে বাড়ির দেয়াল, মেঝে ও পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। এখন বাড়িতে থাকতে ভয় করে। তারপরেও নিজ খরচে ফাটল বন্ধ করেছি। সরকার আমাদের জন্য বরাদ্দ ঠিকই দেয়; কিন্তু যারা এসব কাজের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট থাকে তারা কাজ ভালোভাবে করে না। তাদের কারণে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী বাড়িগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। এমনটি হওয়ার কথা নয়। তারপরেও কোনো বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়, তা মেরামত করে দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিফা নুসরাত বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবারের বাড়ির দেয়াল ও মেঝে ফাটলের বিষয়টি শুনেছি। সরজমিন দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা