kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

একের পর এক যৌতুক দাবি, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন

হাওরাঞ্চল প্রতিনিধি    

২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০৯:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একের পর এক যৌতুক দাবি, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নির্যাতন

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে যৌতুকের দায়ে রনি আক্তার (৩৫) নামের এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ওই গৃহবধূর ছোট ভাই লিংকন তালুকদার বাদী হয়ে গৃহবধূর স্বামী আল-আমিন (৪০) ও শাশুড়ি সোলেমা আক্তারকে (৬০) আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগের পর পুলিশ ওই দিন বিকেলে গৃহবধূর স্বামীর বাড়ি উপজেলার কয়রাপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে নির্যাতিত ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

অভিযোগে জানা গেছে, গত প্রায় ৪ বছর আগে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কয়রাপাড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আল-আমিনের সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার গাগলাজুর ইউনিয়নের চাঁনপুর গ্রামের মৃত আলতু তালুকদারের মেয়ে রনি আক্তারের। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই স্বামী আল-আমিনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুক হিসেবে একটি মোটরসাইকেল দাবি করেন। তখন থেকেই তারা গৃহবধূ রনি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। ধীরে ধীরে নির্যাতনের মাত্রা বাড়াতে থাকেন তারা। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে রনি আক্তার তাঁর বাবার বাড়িতে চলে যান। সেখানে তিনি তাঁর মা ও ভাইদের বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে স্বামীকে মোটরসাইকেল কেনার জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ফ্রিজ ও আসবাবপত্র কিনে দেওয়ার জন্য আরো ৮০ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। এর পর থেকে তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোই চলছিল।

কয়েক মাস আগে হঠাৎ করে রনির স্বামী আল-আমিন রাজহাঁসের খামার করার জন্য ধার হিসেবে আরো ৬০ হাজার টাকা বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য স্ত্রী রনি আক্তারকে চাপ দিতে থাকেন। তার কথামতো রনি তার মা-ভাইদের বলে তাদের কাছ থেকে ধার হিসেবে আরো ৬০ হাজার টাকা স্বামীকে এনে দেন এবং ওই ধারের টাকা চলতি বৈশাখ মাসের শেষের দিকে ফেরত দেওয়া হবে বলে কথা দেন স্বামী আল-আমিন। কিন্তু আল-আমিন টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করেন এবং গত প্রায় ৫-৬ দিন ধরে উল্টো তার স্ত্রী রনি আক্তারকে আরো ৩০ হাজার টাকা তাঁর বাবার বাড়ি এনে দেওয়ার জন্য আবারো চাপ দিতে থাকেন। তার এ প্রস্তাব স্ত্রী রনি আক্তার অস্বীকার করেন। এর পর থেকেই যৌতুকলোভী স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন পুনরায় গৃহবধূ রনিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার শুরু করেন। এ  অবস্থায় ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ রনি আক্তারের সঙ্গে সোমবার বিকেলে কথাকাটাকাটি হয় স্বামীর। একপর্যায়ে তাঁর আল-আমিনসহ পরিবারের লোকজন মিলে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ রনিকে বাড়ির উঠানের মাটিতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকেন। পরে বিষয়টি দেখতে পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে ওই গৃহবধূকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেন।

ওই দিন রাতেই রনি আক্তার মোবাইল ফোনে বিষয়টি তাঁর ভাইদের জানান। পরে তার ছোট ভাই লিংকন তালুকদার মঙ্গলবার দুপুরে মোহনগঞ্জ থানায় এসে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ওই দিন বিকেলেই তিনি পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাস্থল থেকে তাঁর বোনকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার এসআই মো. মমতাজ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, 'মূলত ওই পরিবারটি খুবই লোভী ও উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। গত প্রায় ১ মাস আগেও আল-আমিনের বড় ভাইয়ের বউকেও আমরা একইভাবে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছিলাম।

এসআই মমতাজ আরো বলেন, 'এ ব্যাপারে ওই গৃহবধূর ছোট ভাইয়ের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ও ওসি স্যারের নির্দেশে আমরা ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।' 



সাতদিনের সেরা