kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

সাংবাদিক রতন সরকারকে গ্রেপ্তারে রংপুর সিটি পরিষদের আল্টিমেটাম

রংপুর অফিস   

২৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাংবাদিক রতন সরকারকে গ্রেপ্তারে রংপুর সিটি পরিষদের আল্টিমেটাম

সাংবাদিক রতন সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার ৬০ ঘণ্টা পরেও গ্রেপ্তার না হওয়ায় উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে রংপুর সিটি করপোরেশন পরিষদ। একই সঙ্গে রতন সরকার তার শত্রুপক্ষের দ্বারা ক্ষতির সম্মুখীন হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার পুলিশ প্রশাসনকেই বহন করতে হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সিটি করপোরেশন হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্যানেল মেয়র-২ মাহমুদুর রহমান টিটু এ উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় তিনি বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে গত ২২ এপ্রিল সাংবাদিক রতন সরকার ও জুয়েল আহমেদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই দুই সিনিয়র সাংবাদিকের মধ্যকার সেই ঘটনাটিকে সংবাদিক রতন সরকার ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে রংপুর সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং রংপুর সিটি পরিষদের ওপর চাপিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত হন। সাংবাদিক রতন সরকার ওইদিন সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বলেন, রংপুর সিটি মেয়র প্রেস ক্লাবের কতিপয় নীতিহীন সাংবাদিককে কিনে তাকে (রতন) হত্যার চেষ্টা করেছেন। জনগণের জন্য সরকারের দেওয়া টাকা সিটি করপোরেশন অনিয়ম করেছেন এবং দুর্নীতির রিপোর্ট করায় তাকে মানুষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করছেন এবং রংপুর প্রেস ক্লাবকে টাকা দিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করেছেন মেয়র। শধু তাই নয়, সাংবাদিক রতন সরকার তার ব্যক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে এই বলে পোস্ট দেন, ‘মেয়র টাকা দিয়ে প্রেস ক্লাবের কতিপয় নীতিহীন সাংবাদিককে কিনে ফেলতে পারেন। রাজাকারের বাচ্চাকে দিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করতে পারেন। কথা দিচ্ছি জনগণের জন্য সরকারের দেওয়া এক টাকার অনিয়ম আপনাকে করতে দেবো না ইনশাআল্লাহ। এটা আমার মাতৃভূমির কসম, আমার মায়ের-বাবার কসম।

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল মেয়র আরো বলেন, সাংবাদিক রতন সরকার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়তই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট এবং মনগড়া বক্তব্য দিয়ে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র, সিটি পরিষদ এবং সিটি করপোরেশনের মানহানি করে আসছেন। সে কারণে সিটি পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এবং বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সাংবাদিক রতন সরকারের মিথ্যাচার, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্যের প্রমাণ উপস্থাপন করে গত ২৪ এপ্রিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন মেয়র।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্যানেল মেয়র বলেন, রংপুর প্রেস ক্লাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠনের সাথে যুক্ত দেশের প্রথম শ্রেণির ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের নীতিহীন এবং লাখ লাখ টাকায় সাংবাদিকদের কিনে নেওয়ার মতো মানহানিকর বক্তব্য তার ফেইসবুক আইডি ও বিভিন্ন ফেইসবুক পেজে সরাসরি উপস্থাপন করেছেন সময় টেলিভিশনের প্রতিনিধি রতন সরকার, যা চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের রংপুরে সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্ট সংযোজন করে আইসিটি আইনে মামলা করার ৬০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও সাংবাদিক রতন সরকারকে এখনো পুলিশ গ্রেপ্তার না করায় আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ এপ্রিল রাতে সিটি পরিষদের ৩৩ জন সাধারণ এবং ১১ জন মহিলা কাউন্সিলর কোতয়ালি থানায় স্বশরীরে গিয়ে পুলিশের কাছে সাংবাদিক রতন সরকারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।  থানার অফিসার ইনচার্জ ২৬ এপ্রিল  সন্ধ্যার মধ্যেই তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেনি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সুনিদিষ্ট আইনে মামলা হওয়ার পরেও সাংবাদিক রতন সরকারকে গ্রেপ্তার না করার বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যর্থতা। যা সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকেও উদ্বিগ্ন করেছে। তারাও শঙ্কিত রংপুর পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে।

মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন এই কারনে যে, ইতোমধ্যেই সাংবাদিক রতন সরকার তার ফেইসবুক আইডিতে সরকারি, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট এবং উস্কানিমূলক  পোস্ট দিয়ে অলিতে-গলিতে শত্রুতা তৈরি করে রেখেছেন। তাকে গ্রেপ্তার না করায় যদি তিনি তার শত্রুপক্ষের দ্বারা ক্ষতির সম্মুখীন হন তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার পুলিশ প্রশাসনকেই বহন করতে হবে। রংপুর সিটি মেয়র ও সিটি পরিষদ তার ক্ষতির কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করবে না।

মেট্রোপলিন পুলিশ কমিশনারের কাছে সাংবাদিক রতন সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। তা না হলে সিটি পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়ে লাগাতর কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে বলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দসহ রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।



সাতদিনের সেরা