kalerkantho

শুক্রবার । ৪ আষাঢ় ১৪২৮। ১৮ জুন ২০২১। ৬ জিলকদ ১৪৪২

কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে হুমকি: সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে এমপির নির্দেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নবীনগর প্রতিনিধি   

২৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কালের কণ্ঠের সাংবাদিককে হুমকি: সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে এমপির নির্দেশ

সুমন উদ্দিন

দৈনিক কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর প্রতিনিধি গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপুর হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকির ঘটনায় এবার সন্ত্রাসীদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিলেন স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল। তিনি আজ সোমবার দুপুরে নবীনগর থানার ওসিকে মুঠোফোনে এ কঠোর নির্দেশ দেন।

এদিকে হুমকির ঘটনার পর এর প্রতিকার চেয়ে সাংবাদিক অপু আজ সোমবার সকালে নবীনগর থানায় একটি জিডি করেছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১০-৩০ মিনিট) পুলিশ কাউকেই গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

জানা গেছে, রবিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে স্থানীয় মাঝিকাড়া গ্রামের ১৫/২০ জন বখাটে সন্ত্রাসী সাংবাদিক অপুর বাসার সামনে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে নবীনগরে সাংবাদিকতা করতে হলে স্থানীয় এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের বিরুদ্ধে কিছু লেখা যাবে না এবং টকশোতে এমপি'র বিরুদ্ধে কোনো কথা বলা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেয়।

এসময় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ভবিষ্যতে এমপির বিরুদ্ধে যদি পত্রিকায় কিছু লেখা হয়, কিংবা টকশোতে কিছু বলা হয়, তাহলে অপুর হাত-পা কেটে নেওয়া হবে বলে চিৎকার করে হুমকি দিতে থাকে। তখন তিনি নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশীদকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে ওসি তাৎক্ষণিকভাবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠান। কিন্তু পুলিশ আসার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এ বিষয়ে সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু বলেন, 'গত শুক্রবার একটি ভার্চুয়াল  টকশোতে নবীনগরের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কথার বলার পর স্থানীয় এমপি'র কয়েকজন অনুসারী তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। এরপর শনিবার এমপি এবাদুল করিমের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম নজু'র আত্মীয় মাঝিকাড়ার বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবকলীগের নেতা সুমন উদ্দিন (৩৮) তার ফেসবুকে অপুকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে একটি পোস্ট দেন। ওই পোস্টের পর দিনই রবিবার রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।'

এ ঘটনার পর এমপি এবাদুল করিম সকালে সাংবাদিক অপুকে কল দিয়ে তার খোঁজ-খবর নেন ও ঘটনার নিন্দা জানান।

তবে এ বিষয়ে বারবার কথা বলার চেষ্টা করেও সুমন উদ্দিনের মামা আওয়ামী লীগ নেতা নজরুল ইসলাম নজুর সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, 'ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছে।'

এদিকে জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান বলেন, 'বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।'

স্থানীয় সাংসদ এবাদুল করিম বুলবুল সকালে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমার নাম ব্যবহার করে আমার ইমেজকে ক্ষুণ্ন করতে যারা সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার মতো এ ধরনের ন্যাক্কারজনক কাজ করেছে, তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওসিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সুমনসহ সব সন্ত্রাসীদের ধরতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছি।'

নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সাংবাদিক অপুর জিডি নেওয়া হয়েছে। এমপি স্যারের নির্দেশনার পর আশা করছি রাতের মধ্যেই সুমনসহ অন্যদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।'



সাতদিনের সেরা