kalerkantho

বুধবার । ৯ আষাঢ় ১৪২৮। ২৩ জুন ২০২১। ১১ জিলকদ ১৪৪২

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয় প্রতিবন্ধী তাহমিনাকে

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৬ এপ্রিল, ২০২১ ২৩:০৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে নদীতে ফেলে হত্যা করা হয় প্রতিবন্ধী তাহমিনাকে

প্রতীকী ছবি

প্রতিবন্ধী তাহমিনা আক্তার (২৫) গত বছরের ২৩ জুন সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। দুই দিন পর গাজীপুরের কালীগঞ্জের নগরভেলা গ্রামের বাহুরঘাট এলাকায় বালু নদ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর লাশ উদ্ধার করে উলুখোলা ফাঁড়ির পুলিশ। খবর পেয়ে বড় বোন জাহানারা বেগম লাশটি ছোট বোন তাহমিনার বলে শনাক্ত করেন। তিনি কালীগঞ্জের মধ্য পানজোরা গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে। পরদিন এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়।

প্রাথমিকভাবে সবাই ধারণা করে, মানসিক ভারসাম্যহীন তাহমিনা পানিতে ডুবে মারা গেছেন। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘুরে যায় মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পুলিশের হাতে আসার পর। ওই রিপোর্টে তথ্য মেলে যে ধর্ষণের পর পানিতে ডুবিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় পুলিশ অজ্ঞাতপবিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর মামলা করে। 

পরবর্তী সময়ে চাঞ্চল্যকর হিসেবে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় গাজীপুর পিবিআই। গত রবিবার রাতে ঘটনার হোতা উপজেলার নাগরীতে অবস্থিত ইউনিলিভার কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী রুবেলকে (২৫) আটক করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোশারফ হোসেন। রুবেল উপজেলার নরুন গ্রামের উসমান গনির ছেলে। গতকাল সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। 

পিবিআই গাজীপুর ইউনিটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, রুবেল আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন যে ঘটনার দিন তাহমিনা চাকরির জন্য ইউনিলিভারে গিয়েছিলেন। চাকরি দেওয়ার কথা বলে রুবেল ও অন্য কয়েকজন প্রহরী মিলে তাহমিনাকে কারখানার পাশে নিজেদের মেসে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে রাতে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে অটোরিকশা ভাড়া করে তাহমিনাকে উলুখোলা ব্রিজে নিয়ে যান। সেখানে সবাই মিলে তাঁকে ব্রিজ থেকে বালু নদে ফেলে হত্যা করেন। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।



সাতদিনের সেরা