kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

রোগীদের মধ্যে ক্ষোভ

১০০ টাকা করোনা পরীক্ষা, বাকি ৪০০ 'খরচ' হিসেবে নেয় কুমুদিনী হাসপাতাল

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ১২:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



১০০ টাকা করোনা পরীক্ষা, বাকি ৪০০ 'খরচ' হিসেবে নেয় কুমুদিনী হাসপাতাল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংগ্রহকৃত নমুনার সাথে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকার নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা করে জমা দিচ্ছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশনস) অনিমেষ ভৌমিক বলেছেন, যাতায়াত খরচের জন্য এ টাকা নেওয়া হয়েছে। 

জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে করোনা উপসর্গ থাকা রোগীরা নমুনা দিলে ১০০ টাকা এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীর বাসা থেকে নমুনা সংগ্রহ করলে ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণ করেছে সরকার। মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলোজিস্ট (ল্যাব) মো. জুয়েল হোসেন কমপ্লেক্সে সপ্তাহের রবি, মঙ্গল ও বুধবার করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কমপ্লেক্সের বাইরে গিয়ে এখন নমুনা সংগ্রহ করা হয় না বলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে নিচ্ছেন। গত ১৩ এপ্রিল কুমুদিনী হাসপাতাল ছয়জন, ১৮ এপ্রিল পাঁচজন ও ২২ এপ্রিল ১০ জন রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। নমুনার সাথে প্রত্যেকের ১০০ টাকা করে ফি জমা দেওয়া হয়। বাকি ৪০০ টাকা করে কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খরচের জন্য রেখে দেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের কাওয়ালজানি গ্রামের আমেনা আক্তারের মেয়ের জামাই মো. মনির হোসেন জানান, তার শাশুড়ির করোনা পরীক্ষার জন্য কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৫০০ টাকা ফি নিয়েছেন।

কুমুদিনী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাসাইল উপজেলার করটিয়া এলাকার সুমিতা রানীর ছেলে সন্তোষ জানান, তার মা হার্টের সমস্যা নিয়ে তিন দিন আগে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। সখিপুর উপজেলার সুরবান সরকারের মেয়ে অরুণা সরকার বলেন, ঠাণ্ডা ও জ্বর নিয়ে গত সোমবার তার মাকে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মির্জাপুর উপজেলার ভাদগ্রাম ইউনিয়নের কুইচতারা গ্রামের শহরভানুর মেয়ে বেদেনা ও মেয়ের জামাই মাহমুদ জানান, জ্বর, বমি নিয়ে গত শনিবার কুমুদিনী হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ৬৫ নম্বর বেড়ে ভর্তি করা হয়। একই উপজেলার ভাদগ্রামের জুসুদা রানীর ছেলে বিকাশ জুহানী ও জামুর্কী ইউনিয়নের বানিয়ারা গ্রামের হাসনা বেগমের ছেলে আব্দুর রহমান জানান, তাদেরকে ৪/৫ দিন আগে কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গত বুধবার তাদেরসহ ১০ জন রোগীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন। এ জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে ৪০০ টাকা করে বেশি নিয়েছেন বলে রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ জনের নমুনার সাথে ১০০ টাকা করে পাঠায় কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাকি টাকা কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খরচের জন্য রেখে দেন বলে জানা গেছে।

কুমুদিনী হাসপাতালের এজিএম (অপারেশনস) অনিমেষ ভৌমিক বলেছেন, করোনা উপসর্গ থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহের কাজে কেউ আগ্রহ দেখান না। এ ছাড়া যাতায়াত খরচের বিষয়ও আছে। ৫০০ টাকা করে নেওয়া হলেও নমুনার সাথে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০০ টাকা করে ফি জমা দেওয়া হয়। বাকি টাকা নমুনা সংগ্রহ ও যাতায়াত খরচের জন্য রাখা হয় বলে তিনি জানান। 

কুমুদিনী হাসপাতালের পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার রায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহের জন্য ৫০০ টাকার পরিবর্তে ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। 

টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, সরকারি নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা। কুমুদিনী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরকারি ফি বাদে তাদের খরচ বাবদ অতিরিক্ত ১০০ টাকা নিতে পারেন। এর বেশি নেওয়া হলে তিনি আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।



সাতদিনের সেরা