kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতেই কৃষক দম্পতিকে খুন!

আদালতে ঘাতকের জবানবন্দি

কালকিনি (মাদারীপুর) প্রতিনিধি   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০৮:১৪ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতেই কৃষক দম্পতিকে খুন!

ঘটনার ১৩দিন পর ঘাতক আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

মাদারীপুরের কালকিনিতে আলোচিত স্বামী-স্ত্রী খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত একমাত্র আসামি আশরাফুল মোল্লা (৩৯) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মাদারীপুর জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেয় আশরাফুল। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে নড়াইলের সদর উপজেলার শৈলপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গোপালগঞ্জ জেলার একটি টিম। গ্রেপ্তার আশরাফুল নড়াইল সদর উপজেলার মধ্যপল্লী এলাকার আকবর মোল্লার ছেলে।

পিবিআই গোপালগঞ্জ জেলার এসআই শেখ আল আমিন জানান, সম্প্রতি কৃষি কাজ করতে অপরিচিত কয়েকজন যুবক কালকিনি উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের স্বস্থলা গ্রামে আসে। পরে ওই এলাকার কৃষকের মেয়ের দিকে কুনজর পড়ে আশরাফুলের। এতে বাধা দেন কৃষক দম্পতি। পরবর্তীতে তাদের হত্যার পরিকল্পনা করে আশরাফুল। গত ৪ এপ্রিল প্রথম ওই কৃষককে ডেকে নিয়ে তোয়ালে দিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে রাখা হয়। পরে তার স্ত্রীকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে একই ভাবে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে আশরাফুল।

পরে কৃষক দম্পতির পরিবারের লোকজন নিখোঁজ দাবি করে কালকিনি থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। নিখোঁজের ৪ দিন পর গত ৯ এপ্রিল রাজারচরের শুকিয়ে যাওয়া একটি খালের ভেতর থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ওই স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মামলাটির দায়িত্ব দেওয়া হয় পিবিআইকে। তথ্য-প্রযুক্তির সহয়তায় ঘটনার ১৩ দিন পর নড়াইল থেকে এই ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারী আশরাফুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। এ সময় নিহত স্বামী-স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পোশাক ব্যবহার করে ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দাবি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অপরাধ করে আশরাফুল। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় প্রতারণার একাধিক মামলাও রয়েছে। কৃষক দম্পতি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শুধুমাত্র তাদের মেয়ের সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার জন্য করা হয়। স্বামী-স্ত্রী হত্যার পরে রাতে তাদের মেয়ের সাথে জোরপূর্বক একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করে আশরাফুল। পরে ভোরে পালিয়ে যায় সে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুধুমাত্র আশরাফুল একাই জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।



সাতদিনের সেরা