kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

চলছে বোরো ধান কাটার ধুম

লিটন শরীফ, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) থেকে   

২৪ এপ্রিল, ২০২১ ০২:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চলছে বোরো ধান কাটার ধুম

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বোরো ধান কাটার ধুম লেগেছে। মাঠের সোনালি ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কিষান-কিষানিরা। ধান ঘরে তোলা নিয়ে চারদিকে এখন উৎসবের আমেজ। বাতাসে পাকা ধানের ম-ম গন্ধ। 

এবার বোরোতে ২৫ হাজার মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে কৃষি বিভাগের। 

ইতিমধ্যে হাকালুকি হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৬৫ শতাংশ পাকা ধান কাটা হয়ে গেছে। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুরো বোরো ফসল যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য বড়লেখার উপজেলার হাওরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং চলছে। বড়লেখা উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে এই মাইকিং করানো হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বড়লেখায় এবার ৪ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ করা হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বোরোর বেশিরভাগ আবাদ হয়েছে হাকালুকি হাওরপারের তালিমপুর, বর্ণি ও সুজানগর ইউনিয়ন এলাকায়। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখেও হাসি ফুটেছে।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার ও সোমবার কৃষকদের উৎসাহ দিতে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় ধান কাটা দেখতে যান বড়লেখা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শামীম আল ইমরান, বড়লেখা উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ তাজউদ্দিন, বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেবল সরকার, বড়লেখা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এ এস এম রাশেদুজ্জামান বিনহাফিজ, তালিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিদ্যুৎ কান্তি দাস, সুজানগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নছিব আলী প্রমুখ।

এই সময় তারা কৃষকদের সঙ্গে ধান কাটেন। এছাড়া এবার বিভিন্ন এলাকায় ছাত্রলীগ ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছে।

হাকালুকি পারের কৃষক নুর হোসেন বলেন, ‘গত পাঁচ বছরের মধ্যে এবার ফলন চেয়ে ভালো হয়েছে। ২৯ ব্রি ধান কাটা শেষ হয়েছে। প্রথম দিকে খরায় কিছুটা ক্ষতি করলেও শেষ দিকের বৃষ্টিতে ধানের উপকার হয়েছে।’ 

শ্রীরামপুর এলাকার কৃষক রমাকান্ত বিশ্বাস বলেন, ‘এবার আবহাওয়া ভালা (ভালো) থাকায় ধান ভালা অইছে (ধান ভালো হয়েছে)। কৃষি অফিসের স্যারেরা আমাদের সব সময় পরামর্শ দিয়েছেন। খোঁজ নিয়েছেন।’

হাওর এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার বোরো ধান কাটার শ্রমিক সংকট নেই। তবে শ্রমিকের মজুরি বেশি।

বড়লেখা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেবল সরকার শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বিকেলে বলেন, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে বোরো ধান কাটা চলছে। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা অত্যন্ত খুশি। শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ৬৫ শতাংশ পাকা ধান কাটা হয়ে গেছে। এবার কৃষক পর্যায়ে ধানের দাম ভালো আছে। কৃষকরা উপকৃত হবেন। দুর্যোগের আশংকা থাকায় মাঠে মাঠে গিয়ে কৃষকদের দ্রুত ধান কাটা সম্পন্ন করতে পরামর্শ দিচ্ছি আমরা। প্রতিদিন মাইকিং করানো হচ্ছে। আশা করছি ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সব পাকা ধান কাটা শেষ হবে।’



সাতদিনের সেরা