kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

ছেঁড়াখোঁড়া ছাউনির ঘরে প্রবীণ দম্পতির দুঃসহ জীবন!

দেবদাস মজুমদার, পিরোজপুর   

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০৫:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছেঁড়াখোঁড়া ছাউনির ঘরে প্রবীণ দম্পতির দুঃসহ জীবন!

খড়কুটো আর পলিথিনঘেরা ছাউনির বসতি। দিনে খরতাপ। রাতে কখনো শীতের কামড়। ছেঁড়াখোঁড়া ছাউনির ঘরে বৃষ্টির জল গড়ায়। খুপরি ঘরে যেখানে রান্না, সেখানে খাওয়া আবার সেখানেই জবুথবু হয়ে চলে এই প্রবীণ দম্পতির ঘুম। ঘর নাই, স্বজন নাই, দেখারও কেউ নাই। বয়স্ক ভাতাও না, দশ টাকা কেজির চালও না, নিভৃত গ্রামে শীত নামলে কেউ কম্বল নিয়েও আসে না। ঈদ নাই, নিদ নাই- ছেঁড়াখোঁড়া ঘরে দুই প্রবীণের যেন কোনো জীবনও নাই। 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার টিকিকাটা ইউনিয়নের ছোটশিংগা গ্রামের দিনমজুর জুলফিকার প্যাদা (৬৮) ও পিয়ারা বেগম (৬০) ছেঁড়াখোঁড়া খড়কুটো পলিথিন ঘরে দুঃসহ জীবন কাটছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাত্র তিন শতাংশ জমির মালিক বৃদ্ধ দিনমজুর জুলফিকার প্যাদার আটহাত ভাঙাচোরা ঘর। ঘর নয়, খড়কুটো আর পলিথিন ছাউনির যেন আদিম এক বসতি। দুপুরের খড়তাপে পোড়ে প্রবীণ দম্পতি। আট হাতের খুপরিঘরের কোণে রান্না, সেখানেই তাদের খাওয়াদাওয়া আবার সেখানেই ঘুম। ঘরহীন প্রবীণ এ দম্পতির দুঃসহ জীবন কাটলেও কেউ যেন দেখার নেই।

বৃদ্ধ জুলফিকার প্যাদা জানান, আবাদের জমি না থাকায় গ্রামে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কোনো মতে জীবিকা নির্বাহ করেন। সম্প্রতি প্রতিবেশী এক প্রতিপক্ষের সঙ্গে বসতির জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ হয়। এ নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে প্রতিপক্ষ বৃদ্ধ জুলফিকারের ডান পায়ে রগ কেটে দেয়। সেই থেকে খুঁড়িয়ে হাঁটেন তিনি। এমন অবস্থায় ঠিকমতো দিনমজুরিও মেলে না। দুই বছর আগে একমাত্র ছেলে ইকবাল হোসেন চট্টগ্রামে শ্রমিকের কাজ করতেন। সেখানে লিফট দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ছেলে জুলফিকার। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এখন বৃদ্ধ এ দম্পতিকে দেখার মতো আর কেউ নেই। বর্তমানে ভাঙাচোরা খুপরিতে দুর্বিষহ জীবন কাটছে। 

বৃদ্ধ জুলফিকার মন ভার করে বলেন, একটা ঘরের আবেদন দিয়া রাখলাম কবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘর কি মোরা পামু না?
জুলফিকারের স্ত্রী বেগম আক্ষেপ করে বলেন, মোরা বয়স্ক ভাতাও পাই না। দশ টাকার চাউলও দেয় না। ঘর নাই। শীতে মরি, রৌদ্রেও মরি। গরিবের দেখার কোনো মানুষ কি নাই। মোরা কি সরকারের ঘরও পামু না। 

এ ব্যাপারে স্থানীয় টিকিকাটা ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হানিফ মাল বলেন, ‘তারা অসহায়। এখনো বয়স্ক ভাতার তালিকায় নাম ওঠেনি। নতুন তালিকা হলে নাম ওঠানোর ব্যবস্থা করব।’ প্রধানমন্ত্রীর ঘরের তালিকায় এ রকম একটি অসহায় দম্পতির কেন নাম নাই জানতে চাইলে ইউপি সদস্য বলেন, তাদের ঘরটি বসবাসের অনুপযোগী। ঘরের জন্য তারা কাগজপত্র ছাড়া শুধু ছবি জমা দিয়েছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘরের তালিকায় তাদের নাম নাই। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আকাশ কুমার কুণ্ডু বলেন, প্রবীণ দম্পতি ঘরের জন্য আবেদন করেছে কি না জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘরহীন মানুষ ঘর পাবে- এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার।



সাতদিনের সেরা