kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

খরায় কপাল পুড়ছে কৃষক ও খামারিদের

মাসুদ রানা, ভাঙ্গুড়া (পাবনা)   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খরায় কপাল পুড়ছে কৃষক ও খামারিদের

দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। এর উপর তীব্র তাপদাহে খাল-বিল শুকিয়ে গেছে। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ নলকূপে উঠছে না পানি। এমনকি গভীর নলকূপেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে গত সপ্তাহে দুই দিন আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলেও ছিটে ফোটা বৃষ্টি হয়। এতে প্রকৃতির এমন বিরূপ আচরণে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় বিভিন্ন জাতের ঘাস, পাট ও তিল চাষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে উপজেলার সাধারণ কৃষক সহ খামারিরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।

কৃষি অফিস জানায়, গভীর নলকূপের মাধ্যমে বোরো জমিতে সেচ দেয়াা গেলেও ঘাস, পাট ও তিলের জমিতে সেচের ব্যবস্থা করতে কৃষকদের কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ২০০ ছোট বড় আকারের গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামার থেকে দৈনিক লক্ষাধিক লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এতে দুগ্ধ উৎপাদনে জেলার মধ্যে ভাঙ্গুড়া শীর্ষে রয়েছে। এসব খামারের গবাদিপশুর খাবারের চাহিদা মেটাতে চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩'শ ২০ হেক্টর জমিতে নেপিয়ার, জাম্বু ও গ্যামা জাতের ঘাস চাষ করা হয়েছে। এ ছাড়া এ বছর ১ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পানি সেচের অভাবে এখনো ৬'শ হেক্টর জমিতে পাটের বীজ রোপণ করতে পারেনি কৃষক। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভারী বর্ষণ না হলে এসব জমি অনাবাদি থেকে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা সাড়ে ৪'শ হেক্টর জমিতে তিল চাষ করা হয়েছে। তবে সময় মতো পানি সেচ দিতে না পেরে তিলের চারা শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করেছে।

কৃষক ও খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার উত্তর ও পূর্ব অঞ্চলের খানমরিচ, অষ্টমনিষা ও দিলপাশার ইউনিয়নের অধিকাংশ ফসলি মাঠ বন্যা প্রবন এলাকায় হওয়ায় শুধু সরিষা ও বোরো ধানের চাষ হয়। অপরদিকে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ভাঙ্গুড়া পৌরসভা ও সদর ইউনিয়ন, পারভাঙ্গুড়া এবং মন্ডতোষ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের আওতায় হওয়ায় ধানের পাশাপাশি রবিশস্য ও বিভিন্ন জাতের ঘাসের আবাদ বেশি হয়। মূলত এই অঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের পরিবার গবাদি পশুর আয়ের উপর নির্ভরশীল। এসব গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য হচ্ছে নেপিয়ার, জাম্বু ও গ্যামা জাতীয় ঘাস। তবে এ বছর দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকায় ঘাসের বৃদ্ধি হচ্ছে না। পাশাপাশি উঁচু জমিগুলোতে পর্যাপ্ত রসের অভাবে ঘাসের শিকড় শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে গবাদিপশুর খাবারের জোগান দিতে খামারিদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গভীর নলকূপ গুলো থেকে চাহিদার অর্ধেক পরিমাণ পানি উঠছে। এ ছাড়া অগভীর নলকূপগুলোতে শুধু রাতের বেলায় কিছুটা পানি পাওয়া যায়। এতে মাঠের খাল-বিলে গভীর নলকূপের পানি কিছুটা জমা হলেও তা মুহূর্তেই শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে মাঠের ঘাস, পাট ও তিলের জমিতে পানি সেচ দিতে পারছে না কৃষক। এতে এই মাঠের শতাধিক বিঘা জমিতে পাট ও তিলের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঘাসের জমিগুলোতে পানি সেচের অভাবে ঘাসের পাতা হলুদ হয়ে গেছে। এতে ঘাসের গোঁড়া থেকে পর্যাপ্ত বিস্তার ঘটছে না।

পাথরঘাটা গ্রামের কৃষক নায়েব আলী বলেন, শেষ দিতে না পেরে তিন বিঘা পাটের জমির চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া দুই বিঘা জমিতে ঘাসের চাষ করেছি। সেখানেও বৃষ্টি না হওয়ায় ঘাসের বৃদ্ধি হচ্ছে না। গভীর নলকূপের পর্যাপ্ত পানি না থাকায় মালিকদের কাছ থেকেও পানি কিনতে চেয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগের বছরগুলোতে জমিতে তিল চাষ করতাম। কিন্তু এ বছর বৃষ্টি না থাকায় তিল চাষ করতে পারিনি। আমার মত অনেক কৃষক খরার কারণে বিপদে পড়েছে। আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টি দিলে তবেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পাবো।

উপজেলা সহকারি কৃষি অফিসার সুস্থির কুমার বলেন, দীর্ঘদিন বৃষ্টি না থাকায় এবং হঠাৎ তাপদাহের কারণে ফসলের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এ কারণে এ বছর পাট ও তিল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে। তবে এখনো বৃষ্টি হলে অনেকেই পাট ও তিলের বীজ বপন করবেন। এ অবস্থায় কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করেছেন। কিন্তু অনেকেই তা পারছেন না। 



সাতদিনের সেরা