kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : পুলিশের নজর ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ২০:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডব : পুলিশের নজর ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জারে

ফাইল ছবি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজত ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় ‘অভিযুক্তদেরকে’ ধরতে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। বুধবার সকাল থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা আট জন। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩৬ জনে। যদিও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হেফাজত ইসলামের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা নেই।

পুলিশের একটি বিশ্বস্থ সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ভিডিও ফুটেজে থাকা সরাসরি হামলায় অংশগ্রহণকারিদেরকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হবে। পরবর্তীতে ইন্ধনদাতাসহ অন্যান্যদেরকেও ধরা হবে। তবে সেটা যথেষ্ট প্রমাণ ও সময় সাপেক্ষ।

তাণ্ডবের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে নজর দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারে। ইতিমধ্যেই এসবের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার বেশ কিছু তথ্য পুলিশের কাছে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি অন্তত ১৫-২০টি ফেসবুক আইডি থেকে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলার উস্কানি দেওয়া, গুজব ছড়ানোর কাজটি করা হয়। এসব আইডি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার গুজব ছড়ানো হয়। কোনো কোনো আইডি থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফসহ আইনশৃংখলাবাহিনী গণহত্যার প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশের দেহ থেকে মাথা আলাদা করে দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রত্যেক মাদরাসার ফটকে বিদ্যুতের শক দিয়ে রাখা আহ্বান জানানো হয় যেন কেউ হামলা করতে এলে তাতে লেগে মারা যান। একাধিক ফেসবুক গ্রুপ থেকেও এমন ধরণের অপপ্রচার চালিয়ে মাঠে নামার জন্য আহ্বান জানানো হয়। ওই গ্রুপগুলো জেলা শহরে সামাজিক কর্মকাণ্ডেও অংশ নিতো। ফেসবুক পেজগুলোর কিছু স্ক্রিনশট এ প্রতিবেদকের কাছেও রয়েছে। পুলিশ আসামিদের ধরতে এবং ভবিষ্যৎ সংঘাত এড়াতে এসকল আইডি এবং গ্রুপগুলোতে নজর রাখছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদেরকে গ্রেপ্তারের কথা বলা হলেও এ নিয়ে নানা অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ মানুষকে যেন হয়রানি না করা হয় সে বিষয়ে দাবি উঠেছে। পুলিশও বলছে, হামলার সঙ্গে জড়িতের বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না।

এদিকে হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এখনো কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া টহলও দিচ্ছে আইনশৃংখলা বাহিনী। যদিও পুলিশ বলছে, হেফাজত পরবর্তী তাণ্ডব ও লকডাউনের কারণে শহরে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারিদের শনাক্ত করছি। এছাড়া আরো কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে হামলাকারি সকলকেই আইনের আওতায় আনা হবে। নিরীহ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয় সে বিষয়টিও আমাদের মাথায় আছে।’



সাতদিনের সেরা