kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

হাতীবান্ধায় ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যা চেষ্টা

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

২২ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাতীবান্ধায় ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় গৃহবধূকে হত্যা চেষ্টা

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ঘর ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় নিলুফা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি করে মারধরের পর গলা টিপে হত্যার চেষ্টা অভিযোগ পাওয়া গেছে তারই স্বামীর ভাই, ভাবী, ভাতিজা ও ভাতিজা বৌয়ের বিরুদ্ধে। আহত ওই গৃহবধূ বর্তমানে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনায় গতকাল বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে আহত নিলুফা বেগম বাদী হয়ে স্বামীর ভাই রফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে আরো তিন জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যার আগে উপজেলার উত্তর পারুলিয়া এলাকার ২নং ওয়ার্ডে এ ঘটনাটি ঘটেছে।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার উত্তর পারুলিয়া এলাকার ২নং ওয়াডের্র মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৪৫), স্ত্রী ফেরোজা বেগম (৪২), ছেলে রিপন (২৪) এবং পূত্রবধূ সুমি বেগম (২২)। আহত নিলুফা বেগম উপজেলার একই এলাকার অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের ছোট ভাই সাদেকুল ইসলামের স্ত্রী।

জানা গেছে, দীর্ঘ দিন ধরে পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিলো দুই ভাইয়ের। এমন অবস্থায় গত ২০ এপ্রিল নিলুফা বেগম বাড়িতে একা থাকায় অভিযুক্তরা হামলা চালিয়ে বাড়ি ঘর ভাঙচুর শুরু করে। এতে বাধা দিলে অভিযুক্তরা অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে নিলুফা বেগমের চুলির মুটি ধরে শ্লীলতাহানি ও মারধর করেন। এর এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম নিলুফা বেগমের গলা টিপে ধরেন। এ সময় নিলুফার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় নিলুফাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, নির্যাতনের শিকার নিলুফা ব্যাথার যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। এ সময় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাদের ভাইয়ে ভাইয়ে বিবাদ। এর জন্য আমার কি দোষ। তারা আমাকে বাড়িতে একা পেয়ে গলা টিপে হত্যা করতে ধরছিল। স্থানীয়রা ছুটে না আসলে আমি হয়তো আজ বেঁচে থাকতাম না।

এ বিষয়ে ওই গৃহবধূর স্বামী সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমি সেই সময় বাইরে ছিলাম। খবর পেয়ে ছুটে যাই। গিয়ে শুনি আমার স্ত্রীকে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করিয়েছেন। আর তাই থানায় অভিযোগ করেছি।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের নম্বরে একাধিক বার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

জানতে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. হিরনময় বর্মনের সেলফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি কলটি কেটে দেন।

হাতীবান্ধা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, এ ঘটনায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা