kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

রংপুর ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল

বরাদ্দ ৫০ আইসিইউ শয্যা, বসেছে মাত্র ২৩টি

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০৯:১৭ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বরাদ্দ ৫০ আইসিইউ শয্যা, বসেছে মাত্র ২৩টি

রংপুরের ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ৫০টি আইসিইউ শয্যা স্থাপনের বরাদ্দ ঘোষণা হলেও তা কার্যকর হয়নি।

গত বছরের এপ্রিলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওই ঘোষণার পরও মাত্র ১০টি আইসিইউ শয্যা দিয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নবনির্মিত রংপুর শিশু হাসপাতালটিকে ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। এ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ ও ৯০টি সাধারণ শয্যা স্থাপন করা হয়।

শুরুতে রংপুর ও দিনাজপুর মিলে ২৬টি আইসিইউ শয্যা দিয়ে বিভাগের আট জেলার করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা চললেও দ্বিতীয় টেউ মোকাবেলায় রংপুরে মাত্র ১৩টি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ ৫০টি আইসিইউ শয্যা বরাদ্দ থাকলেও এ পর্যন্ত বসেছে মাত্র ২৩টি।তবে রোগীর স্বজনসহ বিশিষ্টজনরা বলছেন, একটি বিভাগে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসাসেবার জন্য এই সংখ্যা একেবারেই অপ্রতুল। বিভাগের প্রতিটি জেলায়ই আইসিইউ সুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে অনেকেই বিনা চিকিৎসায় মারা যাবেন। দ্রুত আইসিইউ শয্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছরের এপ্রিলে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ১০টি এবং ওই সময়ে দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৬টি শয্যা স্থাপনের মধ্য দিয়ে করোনা রোগীদের আইসিইউ সুবিধা দেওয়া শুরু হয় এই বিভাগে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে রংপুরের ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ৫০টি আইসিইউ শয্যা স্থাপনের বরাদ্দ দিলেও প্রথম পর্যায়ে ১০টি স্থাপনের পর থেমে যায় বাকিগুলোর কাজ। একবছর পর আবার করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আইসিইউ বেড বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। ফলে মাত্র ১৩টি শয্যা বাড়ানো হয়।

রংপুর বিভাগে প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। সংক্রমণের সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। যতই দিন যাচ্ছে ততই করোনার ভয়ঙ্কর আঘাতে চিকিত্সাসেবা নিয়ে শঙ্কিত হচ্ছেন আক্রান্তরা। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য সহসা মিলছে না আইসিইউ সুবিধা। চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল আইসিইউ শয্যা থাকায় কাঙ্খিত সেবা দিতে বেসামাল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন চিকিৎসাকরা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের আট জেলার করোনা রোগীদের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হলেও রংপুর ও দিনাজপুর ছাড়া বাকি ছয় জেলা পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই। এছাড়া রংপুর বিভাগের আট জেলায় বিশেষায়িত ১২টি হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা রয়েছে ৫৩২টি। এর মধ্যে রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ১০০টি, রংপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ২০টি, হারাগাছ হাসপাতালে ৩১টি, দিনাজপুরে এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি, পঞ্চগড় আধুনিক হাসপাতালে ২০টি, নীলফামারীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ১০০টি, কুড়িগ্রামে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৫০টি, ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ৫০টি, গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ২০টি, লালমনিরহাট নার্সিং কলেজে ১২টি, লালমনিরহাট  রেলওয়ে হাসপাতালে ১৫টি এবং লালমনিরহাট সরকারি কলেজের মহিলা হোস্টেলে ৬৪টি শয্যা রয়েছে।

এদিকে রংপুর বিভাগে মানুষের অসচেতনতা, অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে করোনার ঝুঁকি বেড়ে গেছে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর পর চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষ দিকে সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে। 

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত ১৫ থেকে ২০ এপ্রিল ছয়দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আটজন মারা গেছেন। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৮৫ জন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত দিনাজপুরে সবচেয়ে বেশি পাঁচ হাজার ২৩১ জন এবং রংপুরে চার হাজার ৪৭৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছরের ৮ এপ্রিল থেকে গতকাল ২০ এপ্রিল পর্যন্ত বিভাগের আট জেলায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৭ হাজার ৪৩০ জন। এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৩৩১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১৬ হাজার ৮০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় (মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) একদিনে ৩৮৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে ৬৩ জন করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম নূরুন নবী বলেন, এখানে ১০টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত সেখানে সাতজন এবং সাধারণ শয্যায় ৪৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইসিইউ শয্যা  বাড়ানোর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

রংপুর করোনা প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, রংপুর বিভাগে করোনা  রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। এজন্য আইসিইউ সুবিধা বাড়ানো প্রয়োজন। বর্তমান সংকট মোকাবেলার জন্য বিভাগীয় নগরীতে নতুন ১৩টিসহ ২৩টি আইসিইউ শয্যা পর্যাপ্ত নয়।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আহাদ আলী জানান, গত বছর রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে ৫০টি আইসিইউ শয্যা বরাদ্দ দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে প্রাথমিকভাবে ১০টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়। করোনা সংক্রমণ ও ঝুঁকি বেশি একটা না থাকায় বাকি শয্যাগুলো স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়নি। তবে সম্প্রতি করোনা আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। হাসপাতালে আসছেন আক্রান্ত  রোগীরা। ফলে আইসিইউ শয্যার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। আইসিইউ শয্যার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রংপুর ডেডিকেটেড করোনা আইসোলেশন হাসপাতালে শয্যা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



সাতদিনের সেরা