kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ বৈশাখ ১৪২৮। ৭ মে ২০২১। ২৪ রমজান ১৪৪২

পা ভাঙা অসহায় জোছনা এখন কোথায় যাবে?

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০৫:১৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পা ভাঙা অসহায় জোছনা এখন কোথায় যাবে?

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ভবনে ঢোকার সিঁড়ির মধ্যে গৃহবধূ জোছনা বেগম পড়ে ছিল। প্লাস্টার করা ডান পা নিয়ে হাতকে বালিশ বানিয়ে পশ্চিম দিকে তাকিয়ে তিনি যেন মাথায় ‌আকাশ ভেঙে পড়ার ভাবনার ঘোরে। পাশেই ৪ বছরের শিশুটিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে স্বামী। এমন দৃশ্য দেখে কিছু মানুষ চলার পথে সাহায্য করছিল।

আর স্বামী রিপন অপলক দৃষ্টিতে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। অভাব যেন তাঁর সব কিছুতেই কষ্টের বাঁগড়া বসিয়েছে। 

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয় সংবাদকর্মী রুবেল হোসেন হাসপাতালের সিঁড়িতে জোছনাকে পড়ে থাকতে দেখে। ঘটনার বিস্তারিত জেনে অনুরোধ করে ওই গৃহবধূকে আবারও হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। 

কারো সহযোগীতা পেলে ঢাকায় পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করালে জোছনা ফের নিজের পায়ের দাঁড়াতে পারবে। 

জোছনা সদর উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের জামিরতলী গ্রামের মেয়ে। স্বামী মো. রিপন ও ছেলে মো. জুয়েলকে নিয়ে একই উপজেলার বটতলী এলাকায় সড়কের পাশে ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস। রিপন বিভিন্ন বাজার ও গ্রামে প্লাস্টিক বা ভাঙারি জিনিসপত্র খুঁজে এনে বিক্রি করে সংসার চালায়। তাঁদের ভিটেমাটি নেই, আত্মীয়-স্বজনদেরও কোনো খোঁজ নেই। এ অবস্থায় কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে ০১৮৮৪২২৫৩১৭ যোগাযোগ করতে পারেন। বর্তমানে জোছনা সদর হাসপাতালের চতুর্থ তলায় ভর্তি রয়েছেন।

হাসপাতালে রিপনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬ দিন আগে সদর উপজেলার মান্দারী বাজারে রাস্তা পারাপার সময় একটি মোটরসাইকেলের সামনে পড়েন জোছনা। এতে তাঁর পায়ে গুরুতর জখম হয়। মোটরসাইকেলটির চালক ছিলেন দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। দুর্ঘটনায় শেখ মুজিবও আহত হন।

পরে আহত অবস্থায় জোছনাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডান পা ভেঙে যাওয়ায় প্লাস্টার করিয়ে ৬ দিন পর্যন্ত তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাকে ঢাকা কিংবা নোয়াখালীতে নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেয় চিকিৎসক।

এদিকে টাকার অভাবে হাসপাতাল থেকে বের করে স্ত্রীকে কোথায় নেবে, তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় দিন কাটছিল রিপনের। মঙ্গলবার জোছনাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এসময় চিকিৎসক তাঁকে বাড়িতে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য অথবা ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেয়। কিন্তু ছাড়া পাওয়ার পরে হাসপাতালের গেটের সিঁড়িতেই কয়েক ঘণ্টা জোছনাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। আর ছেলে জুয়েলকে কোলে নিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে থাকে রিপন। 

এমন দৃশ্য দেখে হাসপাতালে আসা অন্য রোগীর স্বজনরা ১০, ২০ ও ৫০ টাকা করে কয়েকজন সহযোগিতা করেছেন। পরে সংবাদকর্মী রুবেল হোসেন বিষয়টি নিয়ে সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আনোয়ার হোসেন ও চিকিৎসক নাজমুল হাসানের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ না থাকায় জোছনাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এজন্য চিকিৎসকরা ফের জোছনাকে ভর্তি নিতে চাচ্ছিল না।

মো. রিপন জানান, তাঁর কাছে কোনো টাকা-পয়সা নেই। জোছনাকে বাড়িতে নিয়ে তিনি কী করবেন? চিকিৎসা তো দূরের কথা ওষুধ কিনে খাওয়ানোর অবস্থাও নেই। চিকিৎসক বলছেন, ঢাকায় নেওয়ার জন্য কিন্তু তাঁর সামর্থ্য নেই। রিপনের প্রশ্ন, টাকার অভাবে চোখের সামনেই চিকিৎসা ছাড়া আমার স্ত্রী মারা যাবে?

দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, হঠাৎ জোছনা আমার মোটরসাইকেলের সামনে পড়ে। এতে আমিও আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। জোছনার চিকিৎসার জন্য কিছু খরচ দিয়েছি। তাঁকে আরো সহযোগিতা করব।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) আনোয়ার হোসেন বলেন, জোছনার এখন উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। এজন্য আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে আমরা ছেড়ে দিয়েছি। সর্বোচ্চ দুই দিন আমরা তাকে রাখতে পারব। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া জরুরি।



সাতদিনের সেরা