kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

মুসল্লিরা দৌড়ে এসে দেখলেন, দিনমজুর হোসেনের ঘর পুড়ে ছাই

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি    

২০ এপ্রিল, ২০২১ ১২:৩৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুসল্লিরা দৌড়ে এসে দেখলেন, দিনমজুর হোসেনের ঘর পুড়ে ছাই

গ্রামের সাধারণ মুসল্লিরা তারাবির নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কেউ মসজিদে অজু করছেন, কেউ-বা মসজিদের ভেতরে এবাদত-বন্দেগিতে ব্যস্ত। ঠিক এমনই সময় আগুন লাগে দিনমজুর হোসেন প্রামাণিকের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে মসজিদ থেকে বের হয়ে মুসল্লিরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তার আগেই বসতঘর ও রান্নাঘর ভস্মীভূত হয়। নিরুপায় হয়ে হোসেন প্রামাণিক ও তার স্ত্রী এখন ছেলে হাসমত আলীর ঘরে আশ্রয় নিয়েছেন। পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়নের বড় বিষাকোল গ্রামে সোমবার রাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে রান্না শেষে বাড়ির সবাই ইফতার করেন। মাগরিবের নামাজ আদায় করে হোসেন ও তার স্ত্রী বাড়িতে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। পরে রাত ৮টার দিকে তারাবির নামাজ পড়তে হোসেন ও তার ছেলে বাড়ির পাশেই মসজিদে যান। তারাবির নামাজের আগ মুহূর্তে বাড়ির নারীদের চিৎকার শুনে অন্যান্য মুসল্লিসহ হোসেন ও তার ছেলে দৌড়ে বাড়িতে আসেন। তখন রান্না ঘর ও হোসেন প্রামাণিকের বসতঘরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টার করে গ্রামবাসী আগুন নেভাতে সক্ষম হন। কিন্তু এর আগেই হোসেন প্রামাণিকের ঘরে থাকা শস্য ও কাপড়-চোপড়সহ সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায়।

উল্লেখ্য, ভাঙ্গুড়া উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডে প্রতিবছরই ক্ষতির শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

হোসেন প্রামাণিক বলেন, রান্না ঘরের চুলার আগুন থেকে সবকিছু পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। এখন পরনের পোশাকটিও নেই। 

প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে দিনমজুর পরিবারটি। এখন গ্রামবাসী অথবা সরকারিভাবে সহযোগিতা করলে তবেই ওই পরিবারের মুখে খাবার জুটবে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য নবীর উদ্দিন বলেন, দরিদ্র পরিবারটিকে স্থানীয়ভাবে ও সরকারিভাবে সহযোগিতার জন্য চেষ্টা করা হবে, যাতে রোজার মাসে ইবাদত-বন্দেগি করতে পরিবারের সদস্যরা কষ্ট না পায়।



সাতদিনের সেরা