kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

গৃহনির্মাণ কাজে অনিয়ম! নবীনগরে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   

২০ এপ্রিল, ২০২১ ০১:১৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গৃহনির্মাণ কাজে অনিয়ম! নবীনগরে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি

মাহাবুব আলম লিটন

মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গৃহহীনদের জন্য নির্মাণাধীন ২০টি ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে অবশেষে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের ১০ দিন পর শেষ পর্যন্ত নবীনগরের ইউএনও একরামুল ছিদ্দিকের নির্দেশে সোমবার চার সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হাসানকে গঠিত তদন্ত কমিটির 'আহ্বায়ক' করা হয়েছে। কমিটির অন্য তিন সদস্য হলেন- উপজেলা প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিজানুর রহমান ও উপজেলা জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী খুরশিদ আলম। কমিটিকে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন নবীনগরের ইউএনও একরামুল ছিদ্দিকের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় গৃহহীনদের জন্য নবীনগর উপজেলার সাতটি এলাকায় মোট আট কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৪৮৫টি ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ঘরের ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এসব কাজের তদারকি করছে উপজেলা প্রশাসন (বাস্তবায়ন কমিটি)।

কিন্তু অভিযোগ পাওয়া যায়, উপজেলার সাতটি এলাকায় তৈরি হওয়া এসব প্রকল্পের মধ্যে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০টি ঘর নির্মাণের দায়িত্ব প্রশাসনের দেখভালের বদলে সাবেক যুবলীগ নেতা, নবীনগর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, দৈনিক সমকালের উপজেলা প্রতিনিধি ও শিল্পকলা একাডেমির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম লিটনকে দেওয়া হয়।

কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঘরগুলো নির্মাণে তদারকির দায়িত্ব পাওয়া ব্যক্তি মাহাবুব আলম লিটন 'সাংবাদিক' হওয়ায় ওই সব ঘর নির্মাণে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ওই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

এ অবস্থায় গত ৮ এপ্রিল কালের কণ্ঠে 'মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার উপহার, গৃহনির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ! দেয়ালে হাত দিলেই খসে পড়ে বালু সিমেন্টের পলেস্তরা' এমন শিরোনামে একটি সরেজমিনে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট ওপর মহলে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়।

তবে সাংবাদিক মাহাবুব আলম লিটন সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টিকে ধামাচাপা দিতে বিগত ১০ দিন ধরে নানা মহলে দৌড়ঝাঁপ করেও ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে লিটন কালের কণ্ঠ'র রিপোর্টটিকে ইঙ্গিত করে 'এরা শয়তানের প্রেতাত্মা' শিরোনাম দিয়ে তার নিজের ফেসবুকে একটি নাতিদীর্ঘ লেখা লেখেন। সেখানে তিনি কালের কণ্ঠ'র রিপোর্টটি নিয়ে অশোভন মন্তব্য করেন। কিন্তু এসব করেও শেষরক্ষা তার হয়নি।

অবশেষে কালের কণ্ঠে রিপোর্ট প্রকাশের ১০ দিন পর ঘটনাটির তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি সোমবার গঠন করে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায়, কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১০ দিনে নির্মাণাধীন ২০টি গৃহের যেসব কাজে অনিয়ম হয়েছে (পলেস্তরা খসে পড়া) সেইসব পিলার ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয় এবং সাংবাদিক মাহাবুব আলম লিটনকে ইউএনওর কার্যালয়ে ডেকে এনে গৃহনির্মাণ কাজে নানা অনিয়মের বিষয়ে তার কাছে ইউএনও কৈফিয়ত চান। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা এসবের সত্যতা কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে সাংবাদিক লিটনের মুঠোফোনে বারবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে কথা বলা যায়নি।

তবে এলাকার বাসিন্দা, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুব্রত বর্ধন সোমবার এ প্রতিনিধিকে বলেন, 'আমার নানাবাড়ির এলাকায় মুজিববর্ষের গৃহনির্মাণের এমন জঘন্য অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে সোমবার আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডিসি ও নবীনগরের ইউএনও মহোদয়কে মুঠোফোনে মৌখিকভাবে সনির্বন্ধ অনুরোধ করেছি। আশা করছি, তাঁরা এ বিষয়ে কঠোর হবেন। অন্যথায়, বিষয়টির প্রতিকারে একজন আইনজীবী হিসেবে উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হব।'

এ বিষয়ে নবীনগরের ইউএনও একরামুল ছিদ্দিক তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে সোমবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সাংবাদিক লিটন সাহেবকে ডেকে ইতিমধ্যে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। অনিয়মের বিষয়ে এক চুলও ছাড় দেওয়া হবে না।  তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এক প্রশ্নের জবাবে ইউএনও বলেন, 'ঘটনাটি স্থানীয় সংসদ সদস্য স্যারও পুরোপুরি অবগত আছেন। পত্রিকায় রিপোর্ট হওয়ার পর তিনিই আমাকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।'



সাতদিনের সেরা