kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

বারহাট্টায় গরম হাওয়া ও শিলা ঝড়ের তাণ্ডবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

বারহাট্টা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বারহাট্টায় গরম হাওয়া ও শিলা ঝড়ের তাণ্ডবে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

নেত্রকোনার বারহাট্টায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গরম হাওয়া ও শিলা ঝড়ের তাণ্ডবে ফসলের এই ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন ক্ষতি হওয়ায় আর্থিক অনুদানের দাবি ওঠছে।

চলতি মৌসুমে বোরো ফসলের বাম্পার ফলন হওয়ায় রঙিন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিলেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার কৃষকরা। আচমকা শিলা ঝড়ের তাণ্ডবে তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। গত ৪ এপ্রিল রাতে গরম হাওয়া ও ৯ এপ্রিল রাতে শিলা-ঝড় বয়ে যায়। এতে উপজেলার আসমা, চিরাম ও সিংধা ইউনিয়নের জলদীঘা, সিংগুয়া, চেংজান, গুংগিয়াজুরি, কালাবাগুয়া, আশিয়ল প্রভৃতি বিল ও হাওরের ওঠতি বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এসব হাওর ও বিল এলাকার ছয়হাল, গুড়ল, বাহিরকান্দা, উজানগাঁও, গাভারকান্দা, বাহিরকান্দা, নৈহাটী, নিজ-চিরাম, বাদে-চিরাম, রানীগাও, সাবাদিয়ারবাড়ি, ভাটী-নোওয়াপাড়া, পুটিদানা, বালাম, পুটকিয়া, হরিরামপুর, খাশিকোনা, বাহাদুরপুর প্রভৃতি গ্রামের শত শত পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

গাভারকান্দা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (৪৩), নৈহাটী গ্রামের ডালিম মিয়া (২৭), নিজ-চিরাম গ্রামের কুতুব উদ্দিনসহ (৫০) অনেকের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এলাকার ৪০ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুযোগে অনেক ছোট ছোট কৃষক পরিবারের সর্বস্ব খোয়া গেছে।

নৈহাটী গ্রামের আতিক মিয়ার স্ত্রী সাজেদা (৪৮) বলেন, ‘আমি দার-দেনা কইর‌্যা অন্যের ১৫-২০ কাঠা জমি চাষ করছিলাম। শিলে সব শেষ।’ নিজ-চিরাম গ্রামের রুনা বলেন, ‘আমি ১০ কাঠা জমি গিরবি (বন্ধক) রাইখ্যা কামলা দিয়া চাষ করাইছিলাম। অহন ক্ষেতে কাছি যাইব না।’

নিজ-চিরাম গ্রামের মহরম আলীর স্ত্রী নূরেজা (৪৫) দুই নাতি সাথে নিয়া চেংজান হাওরে নিজের ক্ষেতের কাছে এসে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, ‘আমরার মাত্র ১৪ কাঠা জমি। শিলে সব শেষ কইর‌্যা দিছে। নাতিরারে লইয়া খাইয়াম কি জানি না।’ একই গ্রামের কুতুব উদ্দিন (৫০) বলেন, ‘আমি ২২ কাঠা জমিতে ২৮ চাষ করছিলাম। পাইক্যা গেছিন। ইচ্ছা আছিন আগামী মঙ্গলবার কাটবাম। শিলে সব শেষ কইর‌্যা দিছে।’ বাখরা গ্রামের সোহেল মিয়া, নৈহাটী গ্রামের জাহঙ্গীর (৩২), আলামীন (৩২), নিজ-চিরাম গ্রামের মো. কবির, সকলেই হতাশা। দুই-একদিনের মধ্যে ২৮জাতের ধান কাটার পরিকল্পনা ছিল তাদের। শিলার আঘাতে ক্ষেতের পাকা ধান মাটিতে পড়ে গেছে। শিলার আঘাতে পাকা ধান ঝরে পড়েছে। কাঁচা ধানের শীষ ভেঙে নোয়ে পড়েছে।

সরকারি হিসেব মতে, উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২১ কোটি টাকার ফসলহানি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাইমিনুর রশিদ বলেন, চলতি মৌসুমে বারহাট্টায় মোট ১৪ হাজার ৯৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৮৯ হাজার ৮৫০ টন ধান। গরম হাওয়ার কারণে ৪৭৩ হেক্টর ও শিলা-ঝড়ের কারণে ৮৬৫ দশমিক ২৭ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টাকার হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ ২০ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা। তিনি আরো বলেন, অনেক ছোট ছোট পরিবার সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষি-বীমা চালু থাকলে ওইসব পরিবার কিছুটা হলেও উপকৃত হতো। 

ছোট ছোট কৃষকদের রক্ষার জন্য কৃষি বীমা চালু, সরেজমিনে সুষ্ঠু জরিপ সাপেক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি ও তাদের আর্থিক অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মাইনুল হক।



সাতদিনের সেরা