kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

পাঞ্জাবির বোতাম নিয়ে সংঘর্ষ-গোলাগুলি : গ্রেপ্তার ৬

নরসিংদী প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঞ্জাবির বোতাম নিয়ে সংঘর্ষ-গোলাগুলি : গ্রেপ্তার ৬

নরসিংদীতে পাঞ্জাবির বোতাম লাগানোকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জেরে হামলা ও গোলাগুলির ঘটনায় মাধবদী পৌর মেয়রের গাড়ি চালকসহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচদোনা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. ইউসুফ বাদী হয়ে একটি অস্ত্র মামলা ও গুলিবিদ্ধ হওয়া মাইক্রো গ্রীণ সিটির নিরাপত্তা প্রহরী সালাম মিয়ার বড় ভাই মো. নুরুল ইসলাম বাদি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ রবিবার প্রধান আসামি নূরে আলমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মামলার আসামিরা হলেন, মাধবদী থানার পাঁচভাগ শ্রীনগর এলাকার সাইদুর রহমানের ছেলে নূরে আলম (২২), একই এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে জাহাঙ্গীর (২৬), মো. আতাউল্লাহর ছেলে কাজল (২৩), মো. রতন মিয়ার ছেলে শাহাদাত (২১), পাথরপাড়া এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে ইয়াকুব (২২), পাঁচভাগ শ্রীনগর এলাকার মানিক মিয়ার ছেলে ও মাধবদী পৌর মেয়রের গাড়ি চালক আলামিন (২৬), এনামুল হক এলোর ছেলে মিঠু মিয়া (২০) ও সাত্তার মিয়ার ছেলে আমজাদ হোসেন (২৬)। আসামিদের মধ্যে মিঠু ও আমজাদ ছাড়া বাকি সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাঁচদোনা বাজারের মাইক্রো গ্রীণ সিটি মার্কেটের সোহাগ টেইলার্সে পাঞ্জাবি বানায় জাহাঙ্গীর। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর তা আনতে যায় জাহাঙ্গীর। এসময় তৈরিকৃত পাঞ্জাবির বোতাম পছন্দ না হওয়ায় টেইলার্সের মালিক সিরাজের সঙ্গে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয় জাহাঙ্গীরের। পরে এরই জের ধরে সিরাজকে চাপাতি দিয়ে কোপ দিয়ে আহত করে জাহাঙ্গীর। এরই ধারাবাহিকতায় রাত ৯টার দিকে দেশীয় অস্ত্র লাঠি, লোহা ও অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় জাহাঙ্গীর ও সহযোগী অভিযুক্ত আসামিরা। এসময় নূরে আলমের ছোড়া গুলিতে মার্কেটের নিরাপত্তা প্রহরী সালাম মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়। আহত হয় মনির হোসেন (৪৮), মিনাজসহ (৪৫) উপস্থিত কয়েকজন। পরে স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধ সালাম মিয়াকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে তিনি সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ ও গুলিবিদ্ধ হওয়া আহত প্রহরীর ভাই বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। হামলা ও গোলাগুলির ঘটনায় ছয় জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, মার্কেটের সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে হামলায় মেয়র সাহেবের গাড়ি চালক আলামিন মেয়র সাহেবের ব্যবহৃত গাড়ি চালিয়ে হামলায় অংশ নেন। পাশাপাশি প্রধান আসামি নূরে আলম আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে দুই রাউন্ড গুলি করেছে। আমরা তাঁর খোসা ও তাজা গুলি উদ্ধার করেছি। বাকিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নেয়।

ওসি জানান, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারে আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শুধুমাত্র প্রধান আসামি নূরে আলমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে অস্ত্রটি কার- প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।



সাতদিনের সেরা