kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৩ বৈশাখ ১৪২৮। ৬ মে ২০২১। ২৩ রমজান ১৪৪২

আহত ১০

বগুড়ায় সালিসি বৈঠকে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১৩:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বগুড়ায় সালিসি বৈঠকে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

বগুড়ার শেরপুরে সালিসি বৈঠকে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটও চালানো হয়।সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। এর মধ্যে গুরুতর তিনজন স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও বগুড়ায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

এ ঘটনায় রবিবার (১৮ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শেরপুর থানায় দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। এর আগে শনিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যারাতে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর বারইপাড়া গ্রামে বসা সালিসি বৈঠকে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

আহতরা হলেন পৌরশহরের হাজিপুর এলাকার মনছের আলীর ছেলে হেলাল উদ্দিন (৩৫), একই এলাকার নাহিদ হাসান (২৫), জাকারিয়া (২৬), শিপন (২৭), উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর বারইপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলাম ডিনারের স্ত্রী রাশেদা বেগম (৪০), ছেলে রাশেদ আহম্মেদ (১৭)। আর বাকি তিনজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

পুলিশ, এলাকাবাসী ও থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা যায়, করতোয়া নদীতে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে গত ১৪ এপ্রিল দুপুরে পৌরশহরের হাজিপুর এলাকার মনছের আলীর সঙ্গে উপজেলার গাড়ীদহ ইউনিয়নের মহিপুর বারইপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলাম ও তার ছেলের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে ঘটনাটি আপস-মীমাংসার জন্য শনিবার সন্ধ্যারাতে মহিপুর বারইপাড়া গ্রামে সালিসি বৈঠক বসে। কিন্তু বৈঠকের শুরুতেই দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় তুমুল হট্টগোল। একপর্যায়ে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন।

এদিকে মহিপুর বারইপাড়া গ্রামের কামরুল ইসলাম ডিনার অভিযোগ করে বলেন, আট থেকে ১০টি মোটরসাইকেলযোগে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হেলাল উদ্দীনের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তার বসতবাড়িতে হামলা চালায়। সেই সঙ্গে তার স্ত্রী-ছেলে ও তার লোকজনকে বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। এমনকি শয়নকক্ষের বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আলমারির মধ্যে রক্ষিত গরু বিক্রির এক লাখ ৭০ হাজার টাকা লুটে নিয়ে যায় তারা।

তবে প্রতিপক্ষ মনছের আলীর দাবি, আপস-মীমাংসার কথা বলে তাদের ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর পরিকল্পিতভাতে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। বিশেষ করে ছেলে হেলাল উদ্দীনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এ ছাড়া হেলাল উদ্দীনের দেড় লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেলও ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ ঘটনায় উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দিয়েছে। তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা