kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

এতিমখানার ভবন নির্মাণে ৩৫ লাখ টাকার দুর্নীতি, মন্ত্রণালয়ের চিঠি জালিয়াতি

মোশাররফ হোসেন   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ১২:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এতিমখানার ভবন নির্মাণে ৩৫ লাখ টাকার দুর্নীতি, মন্ত্রণালয়ের চিঠি জালিয়াতি

সাতক্ষীরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানার একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। ভবন নির্মাণে মন্ত্রণালয়ের চিঠি জাল করে জেলা পরিষদেও ৩৫ লাখ টাকা তুলে লুটপাট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২০১৫ সালের ১২ জুলাই সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে সমন্বয় কমিটির এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদর উপজেলার ধুলিহর গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানার একাডেমিক ভবন নির্মার্ণের জন্য ৩৫ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ দেখানো হয়। ওই টাকা খরচ করার অনুমোদন চেয়ে পরদিন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে টিঠি পাঠানো হয়। ওই বছরের ২৮ জুলাই স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উক্ত এতিমখানার প্রাক্কলন কত? এর পূর্বে কত টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে? বরাদ্দ অর্থ কি কি কাজ করা হয়েছে? তার সচিত্র প্রতিবেদন প্রেরণ, উক্ত এতিমখানায় কতজন এতিম/অনাথ রয়েছে?- এ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের কাছে। 

২০১৬ সালের ৬ মার্চ ৪৬.০৪২.০১৪.৪৪.০১.০৪৪.২০১৪. ৬৯৮ নং স্মারকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো: জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উক্ত এতিমখানার নির্মাণ প্রকল্পের ৩৫ লাখ টাকার অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হয়।

পরবর্তীতে জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর স্ক্যানিং এর মাধ্যমে ওই চিঠি থেকে 'অ' শব্দটি মুছে ফেলে 'অস্বীকৃতি'র স্থলে 'স্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হলো' মর্মে জাল চিঠিটি জেলা পরিষদ কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থাপন করেন। 

২০১৭ সালের ৩১ জুলাই তথ্য অধিকার আইনে জেলা পরিষদের থেকে দেওয়া তথ্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব জাকির হোসেনের ২০১৬ সালের ৬ মার্চ দেওয়া তথ্য আইনজীবী অ্যাডভোকেট সত্যরঞ্জন মন্ডল সম্প্রতি হাইকোর্টে উপস্থাপন করেন। ফলে জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়।

এদিকে ২০১৬ সালের ৬ মার্চ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে জেলা পরিষদের আরএডিপির ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে নিয়োগকৃত ঠিকাদার সাতক্ষীরা সদরের বলাডাঙার ঠিকাদার সিরাজুল ইসলামের নির্মাণ কাজ খতিয়ে দেখতে গত গতকাল বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানায় গেলে জানা যায়, টাকা অনুমোদনের দুই মাস আগেই জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহবুবুর রহমানের নির্দেশে ধুলিহরে মুক্তিযোদ্ধা চেয়ারম্যান স ম আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানার একাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ যেনতেন প্রকারে শেষ করা হয়েছে। ঠিকাদারকে ২০১৬ সালের ২৮ মার্চ প্রথম চেক দেওয়া হয়। ওই সালের ২২ আগষ্ট জেলা পরিষদের পক্ষে একজন সাব অ্যাসিস্টেন্ট ইঞ্জিনিয়ারের পরিদর্শন প্রতিবেদন শেষে বকেয়া বিলের চেকও দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুর রউফ কমপ্লেক্স ও এতিমখানার একাডেমিক ভবন নির্মাণে ব্যয় দেখানো ৩৫ লাখ টাকার অনুমোদন প্রথমে জালিয়াতি করা হয়েছে। পরবর্তীতে ঠিকাদারের মাধ্যমে লুটপাট করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস এম মাহাবুবর রহমান।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, 'আমি এখন বদলি হয়ে খুলনা জেলা পরিষদে কর্মরত আছি'। তিনি নিজেকে কোনো প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেই সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দীর্ঘদিন হলো সাতক্ষীরা থেকে বদলি হয়েছেন। তাই কাগজপত্র ছাড়া কোনো মন্তব্য করা যাবে না।

সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।



সাতদিনের সেরা