kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার, বাইকের পেছ‌নে মা‌কে নি‌য়ে ছে‌লে হাসপাতালে

র‌ফিকুল ইসলাম, ব‌রিশাল   

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:৪৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার, বাইকের পেছ‌নে মা‌কে নি‌য়ে ছে‌লে হাসপাতালে

রোগীর অক্সিজেন সাপ্লাই ঠিক রাখতে শরীরের সঙ্গে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে রে‌খে‌ছেন। মোটরসাইকেলের পেছ‌নে ক‌রোনায় আক্রান্ত মা ব‌সে আছেন। সেই  স্কুল শিক্ষিকা মা‌কে লকডাউ‌নের সময় মোটরসাইকেলে ক‌রে শ‌নিবার (১৭ এপ্রিল) বি‌কে‌লে শের ই বাংলা মে‌ডি‌ক্যাল ক‌লেজ হাসপাতালে নিয়ে এসে‌ছেন তার ছে‌লে।  আর এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে মহাসড়কে থাকা চেকপোস্ট থেকে সেই ক‌রোনা রোগী বহন করা মোটরসাইকেলটিকে দ্রুত ও অবাধে যেতে দিয়েছে পুলিশ।

লকডাউ‌নে মা-ছে‌লের এমন বিরল দৃশ্য শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ গেট সংলগ্ন বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কে স্থা‌নীয়রা ধারণ ক‌রে‌ছেন। এমন‌কি সেখানে চেকপোস্টে উপস্থিত থাকা বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যরা মোটরসাইকেল‌টি অবা‌ধে হাসপাতা‌লে পৌঁছা‌নোর জন্য সাহায্য ক‌রে‌ছে।

ক‌রোনায় আক্রান্ত ওই রোগী হ‌চ্ছেন, রেহেনা পারভীন (৫০)। তি‌নি ঝালকাঠীর নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবদুল হাকিম মোল্লার স্ত্রী। রে‌হেনা‌কে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালক হ‌চ্ছেন তারই ছে‌লে জিয়াউল হাসান টিটু।

জিয়াউল হাসান টিটু জানান, গত বুধবার তাঁর মার করোনা শনাক্ত হলে নলছিটির সূর্যপাশা বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শনিবার দুপুরে শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে লকডাউনের মধ্যেই মায়ের জীবন বাঁচাতে মোটরসাইকেলে টিটু নিজের শরীরে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে হাসপাতে নিয়ে আসেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল বলেন, লকডাউনে বের হওয়ার কারণ জানতে চেকপোস্টে যথা নিয়মে তাদের থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। তবে কাছাকাছি এলে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক তার শরীরের সঙ্গে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন।

আর পেছনে তাকে ধরে যে নারী বসে আছেন তার মুখে অক্সিজেন মাস্ক। সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে ওই নারী যথারীতি অক্সিজেন গ্রহণ করছেন। এভা‌বেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ অবস্থা দেখে ওই মোটরসাইকেল চালককে কিছু আর বলার ছিল না। তাই তাকে দ্রুত যেতে দেওয়া হয়।



সাতদিনের সেরা