kalerkantho

শনিবার । ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১২ জুন ২০২১। ৩০ শাওয়াল ১৪৪২

খাজনা আদায়ের নামে প্রতারণার শিকার বহু দিনমজুর পরিবার

আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খাজনা আদায়ের নামে প্রতারণার শিকার বহু দিনমজুর পরিবার

করোনা মহামারির মধ্যে গ্রামের খেটে খাওয়া দিনমজুর পরিবারগুলোর গত একবছর পর্যন্ত যখন নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। ঠিক সেই সময় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর খামখেয়ালীপনার কারণে ওইসব পরিবারের কাছে তাদের পূর্ব পুরুষের রেখে যাওয়া বাড়ির জমি এখন জম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগে জানা গেছে, বাড়ির খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) আদায়ের নামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিনমজুর পরিবারগুলোর কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হলেও নামমাত্র টাকার রশিদ ধরিয়ে দিচ্ছেন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক ও অস্থায়ীভিত্তিতে নিয়োগকৃত কর্মচারী। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে দিনমজুর পরিবারের সম্পত্তি খাস জমিতে অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে নিরুপায় হয়ে এলাকাবাসী ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীদের দাবিকৃত টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। প্রতারণার মাধ্যমে এভাবেই অতিরিক্ত টাকা আদায়ের মাধ্যমে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারী। ঘটনাটি জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের।

উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের কান্দিরপাড় চেঙ্গুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা বিনোদ বিহারী বেপারী অভিযোগ করেন, গৈলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. সুমন হাওলাদার বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর উত্তোলনের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তার ইচ্ছামতো বাৎসরিক খাজনার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের সম্পত্তি খাস জমিতে অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার হুমকি দেন সুমন। ফলে তারা নিরুপায় হয়ে সুমনের দাবিকৃত টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, সরকার নির্ধারিত প্রতি শতক জমিতে বছরে ১০ টাকা হিসেবে তার কাছে ৩৮ মাসের ৩৮০ টাকার খাজনা বকেয়া রয়েছে। সেখানে অফিস সহায়ক সুমন জমি খাস করার হুমকি দিয়ে তার কাছ থেকে নগদ তিন হাজার টাকা নিয়েছেন। তিন হাজার টাকা নগদ নিয়ে রশিদ দেয় ৩৯০ টাকার।

একই গ্রামের বিজেন্দ্র নাথ হালদারের কাছে ১৮ মাসের বকেয়া ১৮০ টাকার স্থলে ২৫০০ টাকা নেয়া হলেও তার রশিদে ১০ টাকা বিবিধ খরচ দেখিয়ে ১৯০ টাকা, হরিহর মন্ডলের কাছে বকেয়া ৪১০ টাকার স্থলে দুই হাজার টাকা নিয়ে তার রশিদে ১০ টাকা বিবিধ খরচ দেখিয়ে ৪২০ টাকা, গোবিন্দ হালদারের কাছে বকেয়া ১১০ টাকার স্থলে এক হাজার টাকা নিয়ে তার রশিদে ১০ টাকা বিবিধ খরচ দেখিয়ে ১২০ টাকা, হরিদাস মন্ডলের কাছে বকেয়া ৬০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা নিয়ে তার রশিদে মাত্র ৬০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। খাজনা উত্তোলনের নামে এভাবেই প্রতারণার মাধ্যমে পুরো রাজিহার ইউনিয়ন থেকে লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ভূমি অফিসের অসাধু কর্মচারীরা।

ওই ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া বাজারের নুরুল ইসলাম হাওলাদার অভিযোগ করেন, অফিস সহায়ক সুমন হাওলাদার বাড়ির বকেয়া খাজনা বাবদ তার কাছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার সম্পত্তি খাস জমিতে অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়ার হুমকি দেন সুমন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অফিস সহায়ক মো. সুমন হাওলাদার বলেন, অনলাইনে খাজনা পরিশোধের জন্য বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও মোবাইল নাম্বার সংগ্রহের জন্য অস্থায়ীভিত্তিতে এক কর্মচারীকে নিয়োগ করা হয়। সে অনিয়ম করে কয়েকজনের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করেছিল। পরবর্তীতে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এখনও কয়েকজনের টাকা পরিশোধ করা হয়নি। লকডাউন শেষে ওইসব ব্যক্তিদেও টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

রাজিহার ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা গৈলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কথা শুনে জরুরি ভিত্তিতে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত সুমন হাওলাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবুল হাসেম বলেন, ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) আদায়ের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে এখনও কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা