kalerkantho

রবিবার । ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৩ জুন ২০২১। ১ জিলকদ ১৪৪২

যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নৃশংসতা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ২১:৪৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌতুকের দাবিতে স্বামীর নৃশংসতা

বরগুনার তালতলীতে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী সুমাইয়া বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে পাষণ্ড স্বামী। গুরুতর আহত সুমাইয়াকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী আ. করিম খন্দকারকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে।

গত ১৪ এপ্রিল বুধবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ গাব্বারিয়া গ্রামে স্বামী করিম খন্দকারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে এবং ১৫ এপ্রিল রাতে অভিযান চালিয়ে স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে তালতলী থানা পুলিশ।

সুমাইয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়নের গাব্বারিয়া গ্রামের আ. মজিদ খন্দকারের পুত্র আ. করিম খন্দকারের সাথে পারিবারিকভাবে ১১ বছর পূর্বে পার্শ্ববর্তী কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নের ছিদ্দিকুর রহমান হাওলাদের কন্যা সুমাইয়া বেগমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আ. করিম তার স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই মারধর করতেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সালিশ মীমাংসা করেন। জামাতা আ. করিমকে তার শ্বশুর একাধিকবার আর্থিক সহযোগিতা করলেও জামাতা যৌতুকের দাবিতে ফের সুমাইয়াকে মারধর শুরু করেন। স্বামীর এমন নিষ্ঠুর অত্যাচার সইতে না পেরে কয়েক মাস পূর্বে সুমাইয়া তার বাপের বাড়ি চলে আসেন। এরপর গত কয়েকদিন পূর্বে শ্বশুর বাড়ির লোকজন এসে আবার সুমাইয়াকে স্বামীর বাড় তে ফিরিয়ে নিয়ে যান।

গত বুধবার গভীর রাতে ঘুমের ঘরে স্বামী আ. করিম স্ত্রীকে খুন করার উদ্দেশ্যে দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ সময় সুমাইয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন দৌড়ে এলে করিম সেখান থেকে পালিয়ে যান। সুমাইয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩০ টিরও বেশি কোপ দিয়েছে স্বামী। খবর পেয়ে সুমাইয়ার বাপের বাড়ির লোকজন মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ওই দিন সকালে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমাইয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ বিষয়ে আহত সুমাইয়ার বড় ভাই আবু হানিফ বলেন, বিভিন্ন সময় আমার বোনকে যৌতুকের জন্য অত্যাচার নির্যাতন করে একাধিকবার মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আমার ভগ্নিপতি আ. করিম। কয়েক মাস আগেও সে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। কিন্তু আমার বোন ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় সে আমার বোনকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করে। এরপর আবার যৌতুকের দাবিতে আমার বোনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে সে। আমার বোন এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি এর বিচার চাই।

তালতলী থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া মুঠোফোনে বলেন, এ ঘটনায় আহত সুমাইয়ার ভাই হানিফ বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা চেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযান চালিয়ে মূল আসামি আ. করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।



সাতদিনের সেরা