kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

মির্জাপুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু, গণপরিবহন বন্ধে শ্রমিকদের দুর্ভোগ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ১৮:৪৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



মির্জাপুরে শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু, গণপরিবহন বন্ধে শ্রমিকদের দুর্ভোগ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের গোড়াই শিল্পাঞ্চলের শিল্পকারখানা চালু থাকলেও গণপরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পোষাকশ্রমিকরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনন্যোপায় হয়ে পায়ে হেঁটে কারখানায় যেতে হচ্ছে তাদের। অথচ কারখানা মালিকরা পোষাকশ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য কোনো ব্যবস্থাই রাখেননি বলে অভিযোগ পোষাকশ্রমিকদের। অবশ্য কারখানা কর্তৃপক্ষ বলেছে, কারখানা সংলগ্ন এলাকায় অধিকাংশ শ্রমিকদের বসবাস। তবে শ্রমিকরা তা মানতে নারাজ। তারা বলছেন, অনেকে শিল্প এলাকায় থাকলেও অধিকাংশ শ্রমিকরাই দূরে থাকেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ১৪ এপ্রিল থেকে দেশের সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। শিল্পকারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের যাতায়াতে বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা চালু না করায় শ্রমিকরা এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় ছোট বড় প্রায় অর্ধশত শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ হাজার শ্রমিক কাজ করে থাকে। এদের অধিকাংশ শ্রমিক শিল্পাঞ্চল এলাকার বাইরে ভাড়া বাসায় ও নিজ বাড়িতে বসবাস করেন। তারা স্বাভাবিক সময়ে কারখানায় গণপরিবহনে যাতায়াত করে থাকেন। কারখানাগুলোতে শ্রমিকদের তিন শিফটে কাজ করানো হয়।

১৪ এপ্রিল থেকে সারা দেশে লকডাউন চলাকালীন সময় শিল্পকারখানা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এসময় শ্রমিকদের যাতায়াতের জন্য শিল্পকারখানায় নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা চালু করার নির্দেশনাও দেয় সরকার। কিন্তু মির্জাপুরে শিল্পকারখানা চালু রয়েছে। ডিউটিও চলছে তিন শিফটে। রমজান মাসে এমনিতেই সংসারে স্বাভাবিকভাবেই ব্যয় কিছুটা বাড়ে। আবার রমজানেই লকডাউন। কারখানাগুলোতে নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা না রাখায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পোষাকশ্রমিকরা। তারা পায়ে হেঁটে, কয়েকগুন বেশি ভাড়ায় রিকশা ও ভাড়ায় মোটরসাইকেলে চেপে কারখানায় যাতায়াত করছেন। মাস শেষে যে বেতন পাবে তার অধিকাংশই যাতায়াত খরচে ব্যয় হবে বলে শ্রমিকরা জানিয়েছেন। যাতায়াতের খরচ মিটিয়ে মাস শেষে যে বেতন পাবে তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ উদযাপন কঠিন হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা করছেন শ্রমিকরা।

বৃহস্পতিবার গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকায় সরেজমিন শ্রকিদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

উত্তরা স্পিনিং মিলে কর্মরত চানপুর গ্রামের দুলাল ও মোরশেদা বলেন, পায়ে হেঁটে ও বেশি টাকা দিয়ে রিকশায় যাতয়াত করছি। বেতনের বেশিরভাগ টাকা যাতায়াতেই চলে যাবে বলে তিনি বলেন।

দেওহাটা এলাকার বেঙ্গল স্পিনিং মিলের নারী শ্রমিকরা জানান, তারা শুরু থেকেই ভাড়া করা নিজস্ব পরিবহনে যাতায়াত করে থাকেন। লকডাউন চলাকালীন সময়েও কারখানা কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবহনের কোনো রকম সুযোগ সুবিধা দেয়নি বলে তারা জানান।

মির্জাপুরের আদাবাড়ি গ্রামের নজরুল ইসলাম বলেন, লকডাউনের সময় চাকরি রক্ষায় কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করে কারখানায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। আমার বাড়ি থেকে কর্মস্থলের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার। আমি বাড়ি থেকেই প্রতিদিন কারখানায় আসি। আগে প্রতিদিন যাতায়াতে আমার খরচ হতো ৪০ টাকা। লকডাউনের কারণে এখন খরচ হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এ ছাড়া যানবাহনের কথা চিন্তা করে আমাকে দুই ঘণ্টা আগে বাড়ি থেকে বের হতে হয়।

বিভিন্ন কারখানায় কর্মরত শ্রমিক আশাদুল, ফরহাদ, রবিন, মামুন, শামছুল মিয়া, জীবন মাহমুদ, আলআমিন, রোজিনা, মিতু, আব্দুর রহমান, রাজিয়া সুলতানা বলেন, তারা কারখানার প্রায় দুই তিন কিলোমিটার দূরে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। সাধারণ দিনে তারা গণপরিবহনে ৩ থেকে ৫ টাকা ভাড়ায় কারখানায় যাতায়াত করেন। লকডাউন থাকায় তাদের অতিরিক্ত ভাড়ায় আসতে হচ্ছে। আবার অনেকেই পায়ে হেঁটে কাজে আসছেন। 

মির্জাপুর উপজেলার কান্ঠালিয়া ও পোস্টকামুরী গ্রাম থেকে বেশকিছু শ্রমিক গোড়াই শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানায় কাজ করতে যান। তারা অভিযোগ করেন, প্রতিদিন তাদের অনেকগুলো টাকা যাতায়াতে খরচ হচ্ছে। বাসসহ অন্যন্য পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় কর্মস্থলে যাতায়াতে তাদের চরম সমস্যা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ কোনো যানবাহন ব্যবস্থা করেননি। বিকল্প ব্যবস্থায় যাতায়াতে আমাদের অনেকগুলো টাকা গচ্চা যাচ্ছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে পরিবহন ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে তারা জানান।

গোড়াই শিল্পাঞ্চল এলাকার কমফিট কম্পোজিট নীট লি. এর জেনারেল ম্যানেজার মো. ফারক হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

সাউথ-ইস্ট টেক্সটাইলের জেনারেল ম্যানেজার মো. একরামুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক আশপাশের এলাকায় বসবাস করেন। তাদের বেশিরভাই পায়ে হেঁটে ও সাইকেল বা রিকশায় যাতায়াত করে। কাজেই আমাদের শ্রমিকদের আনা নেওয়ায় নিজস্ব কোনো পরিবহন ব্যবস্থা নাই।

নাহিদ কটন মিলের জেনারেল মানেজার মো. শহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, তাদের কারখানায় প্রায় ৫ হাজার শ্রমিক রয়েছে। যার অধিকাংশই কোয়ার্টারে বসবাস করেন। যারা বাহির থেকে আসেন তারা কারখানার আশপাশেই থাকেন। এ জন্য পরিবহন ব্যবস্থা নেই বলে তিনি জানান।



সাতদিনের সেরা