kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

রাউজানে ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি: কাউন্সিলরসহ ৮ জনের নামে মামলা

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    

১৫ এপ্রিল, ২০২১ ১৪:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাউজানে ব্যবসায়ীর পায়ে গুলি: কাউন্সিলরসহ ৮ জনের নামে মামলা

ব্যবসায়ী সাইফ উদ্দিন খান বাবু। ছবি: সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাউজানে ব্যবসায়ী সাইফ উদ্দিন খান সাবুর (৫০) পায়ে গুলি করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এতে রাউজান পৌরসভার কাউন্সিলর ও উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলমগীর আলীকে (৫৪) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ৮ জনকে। প্রধান আসামি আলমগীর আলী ছাড়াও তাঁর দুই ভাই রাশেদ আলী (৪৩) ও এরশাদ আলীও (৪০) আসামির তালিকায় রয়েছেন।

গতকাল বুধবার (১৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে রাউজান থানায় মামলাটি  করেন গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ীর ভাই আবদুল্লাহ আল মামুন।

পায়ে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী সাইফ উদ্দিন খান সাবু মামলার বাদী পৌর যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুনের বড় ভাই।

গতকাল বুধবার (১৪ এপ্রিল) বেলা আড়াইটার দিকে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম গহিরা আবুদ্দার বাড়ির শেখ ইব্রাহিম জামে মসজিদ মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

সাবু একই এলাকার মৃত মুজিবুল হকের ছেলে। রাউজান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে মসজিদ কমিটির উন্নয়নকাজ ও কমিটির কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটে।

আহত সাইফ উদ্দিন খান সাবুর ছোট ভাই পৌরসভা যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, 'তিন বছর আগে মসজিদ কমিটির সভাপতি আলী আজমের মৃত্যু হয়। মসজিদের কমিটি করার জন্য বার বার তাগিদ দেওয়া হয়। কিন্তু আলমগীর, ইসমাইল, ইব্রাহিম, জাহাঙ্গীর, সিবু ও বশর কমিটি করার কোনো উদ্যোগ নেননি। বরং তাঁরা মসজিদটি দখল করে রেখেছেন।' 

আব্দুল্লাহ আল-মামুন আরো বলেন, 'মসজিদের কমিটি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের কাজ না করার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার দুপুরের পর মসজিদের কাজ করতে আসলে আমার ভাই নিষেধ করেন। তাঁরা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলরকে খবর দেন। কাউন্সিলর আলমগীর আলী আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার ভাইকে গুলি করা হয়। এ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।'

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শীলব্রত বড়ুয়া বলেন, 'রাউজান থেকে মসজিদ কমিটির দ্বন্দ্বে গুলিবিদ্ধ একজনকে পৌনে ৪টার দিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁকে হাসপাতালের ২৫ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাউন্সিলর আলমগীর আলী বলেন 'গুলিবিদ্ধের কথা সত্য নয়। আহত হওয়ার ছবিটি ভুয়া। আমার কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। মসজিদের বিষয় এটি। সেখানে গুলির প্রয়োজন কী।'

আলমগীর আলী আরো বলেন, 'বাবা মসজিদের সভাপতি ছিলেন। বাবার মারা যাওয়ার পর আর কোনো কমিটি হয়নি। এলাকাবাসী আমাকে মসজিদের দেখাশোনার জন্য ডাকতো। আব্দুল্লাহ আল মামুন ও তাঁর ভাইয়েরা মসজিদের কর্তৃত্ব নিতে উন্নয়নকাজে বাধা দিয়ে আসছিলেন। এলাকার মুসল্লিরা আমার পক্ষে।'

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল হারুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 



সাতদিনের সেরা