kalerkantho

বুধবার । ২৮ বৈশাখ ১৪২৮। ১১ মে ২০২১। ২৮ রমজান ১৪৪২

ডিসি অফিসে ৫ পরিবার

'কারো বাপের ক্ষমতা নেই আমার কাজ বন্ধ করার' চেয়ারম্যানের হুমকি!

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৯:২৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'কারো বাপের ক্ষমতা নেই আমার কাজ বন্ধ করার' চেয়ারম্যানের হুমকি!

দখলবাজ চেয়ারম্যানের বিচার এবং পৈত্রিক জমি রক্ষায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়ে মঙ্গলবার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ডিসি অফিসের নীচে পরিবার নিয়ে অবস্থায় নিয়েছেন শ্রীপুরের পাঁচ ভাই। তাঁরা হলেন- চকপাড়া গ্রামের মারফত আলী (৮০), আশ্রাব আলী (৭৫) ও আবেদ আলী (৭০) এবং তাদের দুই চাচাতো ভাই সমিজ উদ্দিন (৫০) ও আতাবুল্লাহ (৪২)। 

বৃদ্ধ মারফত আলী কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, 'রাত পোহালে রোজা-লকডাইন। নিরুপায় হয়ে এখানে এসেছি। মাওনা উইনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম খোকন আমাদের তিন ভাইয়ের তিন বিঘা, সমিজ উদ্দিনের এক বিঘা এবং আতাবুল্লাহর আড়াই বিঘা জমি একটি কারখানার হয়ে সীমানা প্রচীর দিয়ে দখল করে নিচ্ছে। জমিতে বাড়ি-ঘর রয়েছে। এলাকার নেতা ও থানা পুলিশের কাছে গেছি। কাজ হয়নি। কারো কথা আমলে নিচ্ছেন না চেয়ারম্যান। তাঁর এক কথা, 'কারো বাপের ক্ষমতা নেই তার কাজ বন্ধ করার।' 

মারফত বলেন, 'আমরা এক ইঞ্চি জমিও বিক্রি করি নাই। থানায় অভিযোগ করেছি, জিডি করছি। কয়েক দফা পুলিশ এসে চেয়ারম্যানকে কাজ বন্ধ রাখতে নিষেধ করেছে। কোনো কিছুতেই কিছু হয়নি। সে তার মত বাউন্ডারি করেই চলেছে। সোমবার থানায় চেয়ারম্যান এবং আমাদের কাগজপত্র নিয়ে ওসি স্যার বসেছিলেন। চেয়ারম্যান কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় কাজ বন্ধ রাখতে বলেন ওসি। শুনেননি তিনি।' 

স্ত্রী সন্তানদের দেখিয়ে অসহায় ওই বৃদ্ধ বলেন, 'কোথায় যাব, কোথায় ঘুমাব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই শেষ ভরসা মনে করে এখনে এসছি, ডিসি স্যারকে জানাতে। এসে শুনি তিনি করেনায় আক্রান্ত হয়ে বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। কপাল মন্দ আমাদের।' 

আতাবুল্লাহ বলেন, আমি সাড়ে ৯২ শতক জমি বিক্রি করে ২০১৮ সালে দখল বুঝিয়ে দিয়েছি। গত ৪ এপ্রিল সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চেয়ারম্যান ২০-২৫ জন লোক নিয়ে জমিতে পাকা সীমানা প্রাচীর করছে। নিষেধ করতে গেলে দা, লাঠি মল্লাম নিয়ে তাড়া করে। তিনি আওয়ামী লীগের বড় নেতা। এলাকার বহু মানুষের জায়গা-জমি তিনি দখল করে নিয়েছেন। তাঁর কাছে পুরো এলাকা জিম্মি। 

শ্রীপুর থানার ওসি খন্দকার ইমাম হোসেন জানান, জমির দলিল দেখাতে না পারায় চেয়ারম্যানকে সোমবার কাজ করতে নিষেধ করা হয়। না শুনায় মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় চেয়ারম্যান দৌড়ে পালিয়ে যায়।



সাতদিনের সেরা