kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

সালথায় তাণ্ডব : ৫ মামলায় আসামি ১৭ হাজার, গ্রেপ্তার ৭৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সালথায় তাণ্ডব : ৫ মামলায় আসামি ১৭ হাজার, গ্রেপ্তার ৭৯

গত ৫ এপ্রিল ফরিদপুরের সালথা উপজেলা সদরের তাণ্ডব পরবর্তী আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ নিয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ কর্মীদের ব্রিফিং করেন পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জামাল পাশাসহ ঊর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে সালথা উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ফুকরা বাজারে লকডাউন কার্যকর করতে যান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) মারুফা সুলতানা খান হীরামণি। প্রশাসনের কর্মকর্তা দেখেই স্থানীয় জনতা বিনা উস্কানিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তখন সেখান থেকে সহকারী কমিশনার চলে আসেন। এ ঘটনা জেরে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে মানুষকে উত্তেজিত করে সংঘবদ্ধ হয়ে কয়েক'শ মানুষ সালথা উপজেলা পরিষদ কার্যালয়সহ ১৭টি সরকারি দপ্তরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করেন। এ ছাড়া থানা ভবনের চারপাশের সড়ক ও সীমানা প্রাচীরে অগ্নিসংযোগ করে পুলিশের প্রতি ইটপাটকেল ছোঁড়ে। উত্তেজিত জনতা ইউএনও এবং এসিল্যান্ডের গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। 

এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের ক্ষতি সাধন করে। সরকারি ও জনগণের সম্পদ, জানমাল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে পুলিশ চাইনিজ রাইফেলের ৭৫ রাউন্ড ও শটগানের ৫৮৮ রাউন্ড এবং ৩২টি গ্যাসসেল ও ২২টি সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। উপজেলা পরিষদেও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা ৩১ রাউন্ড শটগানের গুলি ও খবর পেয়ে র‌্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে ৫০ রাউন্ড শটগানের গুলি ও পাঁচটি কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে। এ ঘটনায় সাত পুলিশ সদস্য ও একজন র‌্যাব সদস্য আহত হয়। হামলাকারীদের মধ্যে জুবায়ের হোসেন নামে একজন ঘটনাস্থলে নিহত ও অপর তিন জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে মিরান মোল্লা গত ৭ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বর্তমানে দুজন পুলিশ পাহারায় চিকিৎসাধীন অবস্থা রয়েছে।

পুলিশ সুপার প্রেস ব্রিফিং-এ আরো জানান, এ ঘটনায় সালথা থানায় মোট পাঁচটি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১৭ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত পুলিশ মোট ৭৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে এজাহারনামীয় ১২ জন, ভিডিও ফুটেজ দেখে ও বিভিন্নসূত্রে প্রাপ্ত ৬৭ জনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজাহারনামীয় আসামির মধ্যে দুজন মারা গেছে, আট জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েক জনকে রিমান্ডে নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গত ১২ এপ্রিল আদালতে একজন এজাহারনামীয় ও একজন সন্দেহভাজন আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবাবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মো. আলিমুজ্জামান জানান, ফেসবুক লাইভে প্রচারিত ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্য প্রযুক্তির সাহায্যে উস্কানিদাতা, গুজব রটনাকারী ও ফেসবুকে রটনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
 



সাতদিনের সেরা