kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

দুধকুমার থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে নির্মাণ হচ্ছে সেতুরক্ষা বাঁধ

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি    

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ১৫:৫৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুধকুমার থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে নির্মাণ হচ্ছে সেতুরক্ষা বাঁধ

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে নির্মাণ করা হচ্ছে সোনাহাট নতুন সেতুরক্ষা বাঁধ। এই বাঁধ থেকে মাত্র ১০০ গজ এবং পুরাতন সেতুর পিলারের পাশ থেকে বালু উত্তোলন করায় হুমকির মুখে পড়েছে সোনাহাট রেলওয়ে পুরনো সেতু এবং নির্মীয়মান সোনাহাট নতুন সেতু। 

উল্লেখ্য, দুধকুমার নদের ওপর প্রায় দেড় শ বছরের পুরনো সেতুর দক্ষিণ পাশে ২৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের (১৩টি পিলার সম্বলিত) সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিন্তু মটির স্তরের সমস্যার কারণে দীর্ঘ ১৭ মাস থেকে নির্মীয়মান সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় সেতুর উভয় পাশে ৮১৪ মিটার সেতুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করছে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুর পশ্চিম তীরে ৩১৪ মিটার বাঁধ নির্মাণ করছে এম এ এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। উল্লেখ্য, বাঁধের টপ ৬ মিটার, স্লোপ ২০ মিটার এবং লাঞ্চিং অ্যাপ্রন ২৮ মিটারের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৩৯ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩১ টাকা। 

জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এ এন্টারপ্রাইজ সেতুরক্ষা বাঁধ থেকে ১ শ গজ এবং পুরনো সেতুর পিলারের কাছ থেকে দুটি অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে সেতুরক্ষা বাঁধের মাটির কাজ করছে। 

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত এসও মোস্তাফিজুর রহমান সুজন জানান, তিনি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করতে নিষেধ করেছেন। তার দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও ড্রেজার দিয়ে বালু তুলছে না। তাহলে বালু উত্তোলন করে বাঁধে কে ফেলছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কে বা কারা ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে বাঁধে ফেলছে জানা নেই। জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহল সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বাঁধে ফেলছে। 

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ম্যানেজার ফজলুল হক জানান, তার সাইটে কোনো বালু ফেলা হচ্ছে না। স্থানীয় লোকজন বিক্রির উদ্দেশ্যে বালু উত্তোলন করছেন। বালু উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ড্রেজার মালিক গোলাপ মিয়া জানান, শাহজাহান সোহাগের নির্দেশে তিনি বালু উত্তোলন করছেন। এ ব্যাপারে শাহজাহান সোহাগের সাথে মোবাইলে যোগাাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভূরুঙ্গামারী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাহেদুল ইসলাম জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা জানান, আমরা খোঁজ নিচ্ছি। তারপর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



সাতদিনের সেরা